লাইফস্টাইল

শিশুকে স্কুলে পাঠানোর সঠিক বয়স আসলে কত? জানালো গবেষণা

বর্তমানে সন্তানের বয়স তিন ছুঁতে না ছুঁতেই বাবা-মায়ের চিন্তা শুরু হয়ে যায় যে, শিশুকে কখন স্কুলে পাঠানো উচিত?

Advertisement

কেউ কেউ সন্তানের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের স্বপ্ন থেকে শিশুকে কম বয়সে স্কুলে পাঠাতে চান। আর কোনো কোনো কর্মজীবী অভিভাবক শিশুর নিরাপত্তার খাতিরে তাকে বাসায় একা না রেখে তিন-সাড়ে তিন বছর বয়সেই প্রি-স্কুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিছু গবেষণা বলছে, শুধু বয়স নয়, শিশুর মানসিক প্রস্তুতি ও শেখার আগ্রহই স্কুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেটা কখন? ৫ বছর না ৬? নাকি ৭ বছর হলে ভালো?

ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনোমিক্স রিসার্চে প্রকাশিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যানিশ গবেষকদের একটি প্রবন্ধ দেখিয়েছে, যেসব শিশু সাত বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেছে, তারা একটু বড় হয়ে মনোযোগ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করছে।

Advertisement

সেই সঙ্গে দেখা গেছে যে, একই পরিবেশে আগে স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুরা মাঝেমধ্যে একাগ্রতা ও আচরণগত চাপের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

গবেষণাটির মূল ব্যাখ্যা হলো - শিশুর মস্তিষ্ক প্রথম কয়েক বছরব্যাপী খুব দ্রুত বিকশিত হয়। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় নব্বই শতাংশ মস্তিষ্কের গঠন সম্পন্ন হয় এবং এই সময়টিতে খেলাধুলা, কথোপকথন, সামাজিক সম্পর্ক ও রুটিন-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা শিশুদের শেখার ভিত্তি গড়ে দেয়। কঠোর একাডেমিক শিক্ষা যদি খুব শুরুর দিকে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বের কিছু উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষত ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা সাত বছর বয়সে শুরু করে থাকে। সেখানে প্রথম পর্যায়ে খেলাধুলা-ভিত্তিক, সমাজভিত্তিক এবং ভাষা ও কৌতূহল উদ্দীপক কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে পড়াশোনার কাঠামো যুক্ত করা হয়। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, সামাজিক দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তায় উন্নতি করার ক্ষেত্রে কার্যকর বলে বিবেচিত।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেন যে, স্কুলে যাওয়ার বয়স নির্ধারণের সময় শিশুর আচরণ, ভাষা দক্ষতা, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ও সামাজিক যোগাযোগের প্রস্তুতি বিবেচনা করা উচিত। শুধু বয়সের সংখ্যার ওপর সিদ্ধান্ত না নিয়ে, শিশু যদি নিজে নিজেকে সামলে নিতে শিখে যায় তখন সে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। যেমন – নিজ হাতে গুছিয়ে খাওয়া, নিজে নিজে ঘুমাতে পারা, পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ।

Advertisement

দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো - অতি দ্রুত একাডেমিক চাপের কারণে শিশু পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে, এমন সরল ধারণা ভুল। বরং সময়মত পরিবেশ-ভিত্তিক শেখা, খেলার মাধ্যমে শেখা এবং শিশুর নিজস্ব আগ্রহ ধরে রাখা মানসিক স্বাস্থ্য ও শেখার প্রতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থাৎ, শিশুর স্কুল শুরুর জন্য সাত বছর বয়স একটি যৌক্তিক সময়।

সূত্র: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যানিশ গবেষক , ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনোমিক্স রিসার্চ

এএমপি/এমএস