সন্তান লালন-পালন মানেই মায়ের দায়িত্ব - একসময় এমন ধারণা সমাজে বেশ প্রচলিত ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। গবেষণা বলছে, বর্তমান প্রজন্মের বাবারা তাদের বাবাদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সময় সন্তানদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন। এই পরিবর্তন শুধু সামাজিক নয়, এর গভীর প্রভাব পড়ছে শিশুর মস্তিষ্ক ও মানসিক বিকাশে।
Advertisement
১৯৮০-এর দশকে করা জরিপে দেখা গিয়েছিল, তখন প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি বাবা কখনও নিজের সন্তানের ন্যাপি বা ডায়াপার ছুঁয়েও দেখেননি। আজ সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। মিলেনিয়াল বাবাদের কাছে সন্তানের যত্ন নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো বা স্কুলের কাজে যুক্ত থাকা - এসব আর ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক দায়িত্ব।
নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মস্তিষ্ক গড়ে ওঠে সম্পর্কের ভেতর দিয়ে। বাবা যখন নিয়মিত খেলায় অংশ নেন, দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত থাকেন বা শিশুর কষ্টে সাড়া দেন, তখন শিশুর মস্তিষ্কে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক আচরণ ও চাপ সামলানোর সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু সংযোগগুলো শক্তিশালী হয়।
গবেষকদের মতে, বাবার উপস্থিতি শিশুর স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের ভিন্ন উদ্দীপনা তৈরি করে, যা মায়ের যত্নের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বাবার সঙ্গে খেলাধুলা, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা বা নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতা শিশুদের কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস ও ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়ায়।
Advertisement
শিশু মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকেই বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখে, তাদের মধ্যে নিরাপদ বন্ধন বা সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এতে তারা অন্যের অনুভূতি বোঝা, সহমর্মিতা ও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দক্ষতা শেখে।
আধুনিক বাবারা প্রমাণ করছেন, সন্তানের যত্ন শুধু মায়ের একার দায়িত্ব নয়। বাবা যখন উপস্থিত থাকেন, দায়িত্ব ভাগ করে নেন এবং আবেগগতভাবে যুক্ত থাকেন, তখন তা শিশুর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ইতিবাচক ছাপ ফেলে। সেই সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্কেও ব্যাপক উন্নতি হয়।
এই পরিবর্তন আসলে একটি সামাজিক অগ্রগতি, যেখানে বাবা হওয়া মানে শুধু উপার্জন নয়, বরং সন্তানের জীবনের সক্রিয় অংশ হয়ে ওঠা।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, পিউ রিসার্চ সেন্টার, জার্নাল অব চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
Advertisement
এএমপি/এমএস