প্রবাস

‘প্রবাসী কার্ড’ চান মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার প্রস্তাব দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দেশের বাইরে অবস্থানকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা চান-তাদের জন্য আলাদা করে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হোক।

Advertisement

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের প্রতিই তারা এই দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটি কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার দাবিও তুলেছেন তারা।

প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে পিএলকেএস-এর হিসাব অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবাখাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

নানা সমস্যা, শোষণ ও হয়রানির মধ্যেও শ্রমঘামের অর্থ দেশে পাঠিয়ে যাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া-উভয় দেশেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দখলে থাকায় প্রবাসী শ্রমিকরা নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হলেও কার্যকর সহায়তা পান না বলে অভিযোগ করেন।

Advertisement

কুয়ালালামপুরের শাহ আলম এলাকায় কর্মরত চাঁদপুর-৩ আসনের ভোটার শাহজালাল মৃধা, মোস্তফা কামাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুনকা গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি করাও সহজ হবে। তবে প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা জরুরি।

মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা প্রবাসীরা দেশে গেলে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হই, বিদেশে আসতে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের প্রতারণা সহ্য করি। তারপরও কষ্ট করে রেমিটেন্স পাঠাই। আমাদের জন্য প্রবাসী কার্ড থাকলে দেশে বা বিদেশে বিপদে পড়লে অন্তত পরিচয়ের ভিত্তিতে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

হৃদয় মিয়া বলেন, প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কোনো সরকারই যথেষ্ট সোচ্চার নয়। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সেবা দিলে আমরা সম্মানিত বোধ করব এবং আরও উৎসাহ নিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাব।

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন বলেন, অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। আমরা বিষয়টি হাইকমিশনে জানিয়েছি। সরকারে গেলে দল এই উদ্যোগ নেবে বলে আশা করেন তিনি।

Advertisement

অন্যদিকে মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে ইপিএসের আওতায় বিএমইটি একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র দেয়, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।

রেমিট্যান্সে ভর করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও প্রবাসীরা এখনও পরিচয়, সুরক্ষা ও সম্মানজনক সেবার অভাবে ভুগছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কার্ড এখন শুধু একটি দাবি নয়, বরং সময়ের বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

এমআরএম