অর্থনীতি

নির্বাচন ঘিরে চাহিদা বেড়েছে হ্যান্ড মাইকের

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পাল্টে গেছে ভোটের প্রচারণার ধরন। বড় জনসভার চেয়ে এখন প্রার্থীরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ‘ডোর-টু-ডোর’ বা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ওপর।

Advertisement

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে এর স্পষ্ট প্রতিফলন। পুরান ঢাকার সরু গলিগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় বড় কোনো সাউন্ড সিস্টেম নয়, তাৎক্ষণিক বক্তব্যের জন্য তার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ছোট হ্যান্ড মাইক।

বাড়ির ছাদ বা জানালা থেকে ভোটাররা যখন ইশারায় সাড়া দিচ্ছেন, তখন ছোট একটি মাইকেই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সালাম পৌঁছে দিচ্ছেন প্রার্থী।

দিন বদলে এখন যেমন তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি প্রচারণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের জটলা তৈরি হলে সেখানে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দিতে এখন প্রার্থীরা বহনযোগ্য হ্যান্ড মাইককেই সবচেয়ে সুবিধাজনক মনে করছেন।

Advertisement

আরও পড়ুনতারেক রহমানের জনসভা থেকে ১৮টি মাইক চুরিনির্বাচনি প্রচারণায় মাইক ব্যবহারে সময় বেঁধে দিল ইসিমাইক পরীক্ষার জন্য কোরআন তিলাওয়াত, ইসলাম কী বলে?

নির্বাচনি প্রচারণার এই নতুন ধারার কারণে রাজধানীর ইলেকট্রনিক্স মার্কেটগুলোতে হ্যান্ড মাইকের চাহিদা এখন বেড়েছে। বিক্রেতারা দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখছেন এসব পণ্য, যেনো সহজেই চোখে পড়ে ক্রেতাদের।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তানের আশপাশের মার্কেটগুলোতে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিকভাবে বেচা-কেনার হিসাব জানাতে পারেননি।

বিক্রমপুর টাওয়ারের আল জাফর ইলেকট্রনিক মার্কেটের বিসমিল্লাহ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মেসবাহ উদ্দিন। তিনি মূলত চীন থেকে এসব হ্যান্ড মাইক আমদানি করেন।

Advertisement

মেসবাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমানে ছোট মাইকগুলোর চাহিদা বেশ বেড়েছে।

তার মতে, মানভেদে এই মাইকগুলো পাইকারিতে ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এসব মাইক সংগ্রহ করছেন। এমনকি ঢাকার বাইরে থেকে প্রার্থীরা অনলাইনে যোগাযোগ করে কুরিয়ারের মাধ্যমেও এই মাইকগুলো সংগ্রহ করছেন।

আরও পড়ুননির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের সময়সীমা কমানোর প্রস্তাববিদেশ যেতে ঋণ না পেয়ে মাইক ভাড়া করে যুবকের গালাগাল, ভিডিও ভাইরালন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রিতে মাইক হাতে কাউন্সিলর

রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়াম মার্কেট ও গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, ছোট আকারের হ্যান্ড মাইকগুলো পাইকারিতে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় মিলছে। মাঝারি সাইজের মাইক পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। উন্নত মানের বড় সাইজগুলোর দাম তিন হাজার টাকার আশেপাশে। তবে খুচরা বাজারে এই দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে। ব্যাটারি ক্ষমতা (ব্যাকআপ) এবং স্পিকারের শব্দের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত মাইকের মান ও দাম নির্ধারিত হয়।

বাজারে এখন এমন সব মাইক পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোতে আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্য বাজানোর সুবিধাও রয়েছে।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের বাজেট ও মানের মাইক বর্তমানে সহজলভ্য।

আরও পড়ুনএকাই হ্যান্ডমাইক হাতে স্ত্রীর জন্য ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন স্বামীমাইক ভাড়া করে গালাগাল, বিদেশযাত্রার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে সেই যুবকের৭ মার্চে টাকা নয়, দেশপ্রেমে রাজি হয় ‘কল-রেডী’ মাইক সার্ভিস

বিক্রেতারা বলছেন, নির্বাচনি বিধিবিধানের কারণে বড় মাইকের ব্যবহারে কিছুটা কড়াকড়ি থাকায় প্রার্থীরা হ্যান্ড মাইককেই বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর মনে করছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ছোট এই ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের বাজার ততই চাঙা হয়ে উঠছে।

জাতীয় স্টেডিয়াম মার্কেটের রিফাত সাউন্ড দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মাইকের স্থায়িত্ব নির্ভর করে এর ব্যাটারি এবং স্পিকার মানের ওপর। প্রার্থীরা সাধারণত এমন মাইক খুঁজছেন যা দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকবে এবং সহজে বহন করা যাবে।

চাহিদা থাকে সারা বছর

নির্বাচনি ডামাডোলের বাইরেও সারা বছর এই হ্যান্ড মাইকের একটি নির্দিষ্ট ক্রেতা গোষ্ঠী ও বাজার রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, হকার ও ফেরিওয়ালারা তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের এই হ্যান্ড মাইকগুলো ব্যবহার করে থাকেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ছোট পরিসরের সভা-সমাবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্কাউট কার্যক্রম এবং ট্যুরিস্ট গাইডদের কাছে এই মাইকের চাহিদা থাকে সব সময়। এছাড়া বড় বড় নির্মাণাধীন প্রকল্পে শ্রমিকদের নির্দেশনা দিতে এবং কলকারখানায় জরুরি ঘোষণা দিতে এই ডিভাইসটি অপরিহার্য।

তবে নির্বাচনের সময় এই নিয়মিত চাহিদার সঙ্গে কয়েক গুণ বাড়তি চাহিদা যোগ হয়, যা বাজারকে চাঙা করে তোলে।

এমডিএএ/এমএমএআর