গ্রামের অনেক পরিবারে আজও মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার চল আছে। অন্যদিকে শহুরে জীবনে ডাইনিং টেবিল ও চেয়ারে বসে খাওয়াই যেন নিয়ম। তবে চিকিৎসকদের মতে, মেঝেতে বসে খাবার খাওয়া শুধু ঐতিহ্য নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী একটি অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটিতে বসে খাওয়ার সময় শরীরের ভেতরে একাধিক ইতিবাচক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, যা আমাদের নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
Advertisement
আসুন জেনে নেওয়া যাক মেঝেতে বসে খাবার খেলে শরীরের কী কী পরিবর্তন ঘটতে পারে-
হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়েমেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসলে শরীরের উপরের অংশে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিকের তুলনায় ভালো হয়। এর ফলে হৃদ্যন্ত্রকে অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই কাজ করতে সুবিধা হয় এবং হার্ট সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি কমে।
পুরো শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়মেঝেতে বসে পাত পেরে খাওয়ার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে শরীর চাঙ্গা থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়।
Advertisement
মানসিক চাপ ও স্ট্রেস কমেগবেষণায় দেখা গেছে, মাটিতে বসে থাকার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্ককে শিথিল করে। এতে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়, ফলে মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
একসঙ্গে হয় একাধিক আসনের চর্চামেঝেতে বসে খাওয়ার সময় আমরা অজান্তেই সুখাসন, স্বস্তিকাসন বা সিদ্ধাসনের মতো যোগাসন করে ফেলি। এতে শুধু হজমই ভালো হয় না, শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।
শরীর আরও মজবুত ও নমনীয় হয়এই অভ্যাস উরু, হাঁটু, গোড়ালি ও শিরদাঁড়ার শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পেশি, কাঁধ ও বুকের ফ্লেক্সিবিলিটি বৃদ্ধি পায়, যা বয়স বাড়লেও শরীরকে সচল রাখে।
হজম ক্ষমতা বাড়েমেঝেতে বসে খাওয়ার সময় শরীর কখনও সামনের দিকে ঝুঁকে, কখনও সোজা হয়। এই প্রাকৃতিক নড়াচড়ার ফলে হজমে সহায়ক ডাইজেস্টিভ জুস বেশি ক্ষরণ হয়। যাঁরা গ্যাস, অম্বল বা বদহজমে ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
Advertisement
আয়ু বৃদ্ধিতেও সহায়ক২০১২ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, যারা কোনো সাপোর্ট ছাড়াই মাটিতে বসে আবার দাঁড়াতে পারেন, তাদের শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা বেশি থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বেশি।
শরীরের ব্যথা কমেমেঝেতে বসে খাওয়ার সময় সাধারণত পদ্মাসন বা অনুরূপ ভঙ্গি তৈরি হয়। এতে পিঠ, পেলভিস ও তলপেটের পেশি শক্তিশালী হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের নানা ব্যথা কমতে শুরু করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেমেঝেতে বসে খেলে ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হয়, যা পেট ভরার সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পাঠায়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন: যে রোগে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে চিকিৎসা প্রয়োজন হয় স্বাভাবিক প্রসব নাকি সিজারিয়ান, কোনটি উপযুক্ত?
এসএকেওয়াই/