বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশের উন্নয়নের। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
Advertisement
তারেক রহমান বলেন, এ দেশ কোনো দলের না, কারো ব্যক্তিগত না। এই দেশ লাখোকোটি মানুষের। এদেশের মালিক এই দেশের জনগণ। কাজেই সবার আগে বাংলাদেশ।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে বাক্সের ম্যাজিক দেখানো হয়েছিল। রেজাল্ট পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। এবার যাতে রেজাল্ট পাল্টাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো কোন কোন মহল চেষ্টা করছে কিভাবে ভোটকে বাধাগ্রস্ত করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মা-বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে৷
Advertisement
তিনি আরও বলেন, গত ১৫/১৬ বছর আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে গ্রামে-গঞ্জে আনাচে কানাচে, মানুষ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন থেকে, মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা গুম দেখেছি, মিথ্যা মামলা দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তন যদি করতে হয় ৫ আগস্ট যেমন বাংলাদেশের জনগণ দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ঠিক একইভাবে আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ৫ তারিখের সেই পরিবর্তন চালু রাখতে না পারি, ভোট দিয়ে যদি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি তাহলে যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে চাচ্ছি, যে গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করবে, যে গণতন্ত্র মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে সেই গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত করবে।
মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে জানিয়ে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। যদি কৃষক ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। কৃষি লোন ১০ হাজার পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করতে চাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম, খতিব অন্য ধর্মীয় মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। দেশ কিভাবে গঠিত হবে সেই পরিকল্পনা আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরলাম। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চাই।
Advertisement
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ আছে তাদের সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যদি বকাঝকা করি তাহলে আপনাদের কোন লাভ হবে না। বরং আমরা যারা নির্বাচন করছি তারা দেশের জন্য কি করবো সেটা আপনাদের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। একটি রাজনৈতিক দলের এটাই হচ্ছে কাজ, জনগণের জন্য তারা আগামী দিনে সুযোগ পেলে তারা কি কি কাজ করবে-সেটাই তুলে ধরা। আজকে আপনাদের সামনে আমি সেই কথাগুলোই তুলে ধরলাম। পরিকল্পনা সব আপনাদের সামনে। বাস্তবায়নের শক্তিও আপনাদের সামনে। অর্থাৎ আপনারা ধানের শীষকে ১২ তারিখে বিজয় করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা কাজগুলো করবো।
জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর তারেক রহমান টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব জনগণের কাছে অর্পণ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা দেন- টাঙ্গাইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের ওবায়দুল হক, টাঙ্গাইল-৪ আসনের লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,টাঙ্গাইল -৬ আসনের রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর/এএসএম