দেশজুড়ে

তরুণীর বিয়ের ফাঁদে বুয়েট ছাত্র, আদালতে মামলা

নওগাঁর এক তরুণীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যশোরের মেধাবী এক যুবকের সর্বস্বান্ত হওয়ার জোগাড় হয়েছে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম ও বিয়ে করে এখন ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।

Advertisement

ওই তরুণী এর আগে আরও দু’যুবককে বিয়ে করে একইভাবে তাদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা টাকা। অবশেষে ফাঁদ থেকে বাঁচতে বুয়েট শিক্ষার্থী যশোরের যুবক সামিয়াতুল খান যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় নওগাঁর পত্মীতলার তরুণী মিম্মা খাতুন ও তার মাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিম্মা খাতুনের (মিম্মা রাজাকনা ফিহা) সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর। এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ১০ লাখ টাকা। বিয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই মিম্মা খাতুন ওরফে মিম্মা রাজাকনা ফিহার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তার চলাফেরা সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, নিয়মিত চলে ধূমপান ও মদ্যপানের মতো নেশা। এরপর এক পর্যায়ে শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তালাক দিয়ে দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

সামিয়াতুল খান জানান, তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই তরুণী এর আগে আরও দু’যুবকের কাছ থেকে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর রাজশাহীর শিরোইল কাজী অফিসে তিনি আরেক তরুণকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২০ সালেও একইভাবে আরও একটি বিয়ে করেন। তিনটি বিয়ের ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার মাও জড়িত। মা ও মেয়ে মিলে তার যুবলীগ নেতা মামার মাধ্যমে আগের দু’যুবককে জিম্মি করে ওই টাকা হাতিয়েছেন। এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে তিনি ২৮ জানুয়ারি যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলা করেছেন।

Advertisement

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মোছা. মিম্মা খাতুন পূর্বের বিয়ের কথা স্বীকার করলেও প্রতাণার কথা অস্বীকার করেন।

যশোরের আদালতে মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন শাকিল জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি মিম্মার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মিলন রহমান/এফএ/এমএস

Advertisement