খুলনাজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। প্রতি মাসে শতাধিক অভিযান হলেও পঞ্চাশের গণ্ডি পেরোতে পারেনি সফল মামলার সংখ্যা। প্রায় মামলা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
Advertisement
অন্যদিকে প্রায় সাত মাস যাবৎ জেলা কার্যালয়ের ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক পদ রয়েছে শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে সার্কেলের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অভিযান পরিচালনায় পড়ছেন বিপাকে।
খুলনা জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মোট ১৬৮টি অভিযানের বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ৪২টি। যেখানে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়, প্রায় ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয় এবং ট্রাক জব্দ হয় একটি। ডিসেম্বর মাসে ১৫৪টি অভিযানের মধ্যে মোট মামলা হয় ৩৩টি। যেখানে প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয় এবং ইয়াবা উদ্ধার হয় ৫৩ পিস। নভেম্বর মাসে নিয়মিত মামলার থেকে মোবাইল কোর্ট হয় বেশি। মাত্র ৪টি নিয়মিত মামলা এবং ৩৮টি মোবাইল কোর্ট হয়। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসে ৭টি নিয়মিত মামলা এবং ২৬টি মোবাইল কোর্ট সম্পন্ন হয়।
বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দপ্তরের জেলার ‘ক’ সার্কেল গুরুত্বপূর্ণ একটি সার্কেল। গত প্রায় সাত মাস যাবৎ সার্কেলটির পরিদর্শক পদ শূন্য রয়েছে। দায়িত্বেও নেই কোনো কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী বড় কোনো অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। বিগত দিনে পরিদর্শকরা দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বড় বড় অ্যাচিভমেন্ট হয়েছে। কিন্তু এখন মাদকবিরোধী নামমাত্র অভিযান হলেও সফলতা নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন মিটিংয়ে এ বিষয়ে বললেও কর্ণপাত নেই সংশ্লিষ্টদের।
Advertisement
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, খুলনায় প্রতিনিয়ত মাদকের বড় বড় চালান আসছে। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মাদক ব্যবসা করছে। মাদক ব্যবসা নিয়ে খুনোখুনি হলেও কিংবা আমরা অনেক তথ্য পেলেও পরিদর্শক কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কর্মকর্তা না থাকায় এবং সঠিক সময়ে অভিযান পরিচালনা করতে না পারায় মাদক ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বিগত দিনে এমন পরিস্থিতি ছিল না। আসলে যেকোনো কাজে সঠিক নেতৃত্ব না থাকলে সে কাজে সফল হওয়া যায় না। আর আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অনেক কঠিন একটা বিষয়। স্বল্প জনবল এবং একটি মাত্র গাড়ি দিয়ে এত বড় জেলায় পুলিশ কিংবা অন্যান্য বাহিনীর মতো অভিযান চালানো দুষ্কর।
তিনি আরও বলেন, অনেক বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা সম্ভব। সেজন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রয়োজন। এ ধরনের কাজে ‘ধর তক্তা, মার পেরেক’ ফর্মুলা প্রয়োজন। একাধিক তেজি অফিসারদের অজ্ঞাত কারণে বিভিন্ন সময়ে বদলি করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় অফিস প্রধান এ বিষয়ে গুরুত্ব দিলে সহজেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু তাকে কিছু বললে তিনি বলেন, ‘শয়তানে নাড়া দিচ্ছে, এখন চুপচাপ থাকতে হবে’। আমরা অনেক কিছু জেনেও চেইন অব কমান্ডের জন্য চুপ থাকি। নইলে আবার অসদাচরণের খাতায় নাম উঠে যাবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মলয় ভূষণ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘ক’ সার্কেলে পরিদর্শক পদ শূন্য থাকলেও অন্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান ছাড়াও আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। মাদক নির্মূলে আমরা সক্রিয় রয়েছি।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. আহসানুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে খুলনা জেলা কার্যালয়ের ‘ক’ সার্কেল ফাঁকা রয়েছে। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে আমরা বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এছাড়া খুলনা বিভাগজুড়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে যানবাহন নিয়ে কোনো সংকট বা সমস্যা নেই বলে তিনি জানান।
এফএ/এমএস