দেশে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানি বাজারের পাশাপাশি প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এই সুযোগ সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি এ খাত। তাই লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে রপ্তানিমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
Advertisement
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্ক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী রপ্তানি কাঠামোর পরিবর্তনে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করলেও বাংলাদেশ গত ৫০ বছরেও এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। পারচেসিং পাওয়ার প্যারিটির বিবেচনায় দেশের অন্তত ২৫ শতাংশ মানুষের উল্লেখযোগ্য ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে, যা একটি বড় বাজার নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়ালি আমরা অ্যাগ্রো থেকে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এসেছি, টেক্সটাইল ও আরএমজিতে যুক্ত হলাম। কিন্তু এখান থেকে সামনে যাওয়ার যে জায়গা—লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং—সেখানে আমাদের উত্তরণ সেভাবে ঘটেনি। একই সঙ্গে কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদার দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Advertisement
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট (ফাইন্যান্স, কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট) হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, রপ্তানি বাজারের পাশাপাশি প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাজার এ খাতের জন্য বড় সুযোগ। লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল—দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্যের কোয়ালিটি এবং পণ্যটি তার নির্ধারিত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে পূরণ করছে কি না। কোয়ালিটি কমপ্লায়েন্স, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোকে বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অনেক বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রোডাকশন ট্রেন্ড ও গ্লোবাল গ্রোথ প্যাটার্ন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আইওটি ইমপ্লিমেন্টেশন, রিজেকশন রেট কমানো, রিসোর্স-এফিশিয়েন্ট প্রোডাকশন এবং প্রিসিশন প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে পারে, তবে প্রকৃত কাজটি করতে হবে প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোক্তাদেরই।
সভাপতির বক্তব্যে বাইশিমাস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত কৃষি, টেক্সটাইল, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিসহ বহু শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সরবরাহ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ লাখ দক্ষ কর্মী কাজ করছেন। খাতটি জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে।
তিনি জানান, দেশের ৮.২ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেক এই শিল্প পূরণ করছে। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, ডাই ও মোল্ড উৎপাদন করা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
Advertisement
বিশ্ববাজারে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশ ১ শতাংশেরও কম। বর্তমানে এই খাত থেকে প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হচ্ছে। যথাযথ নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাইশিমাস-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার শুরু হওয়া এই মেলা চলেবে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সর্বশেষ প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ইএইচটি/ইএ