গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ছাড়াই ৩০ বছর আগের একটি সেতু ভেঙে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি ব্রিজটির অনন্ত ৩০ হাজার ইট ও রড নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন চার গ্রামের হাজারো মানুষ।
Advertisement
জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর-রাজনীতির বাজার রাস্তায় প্রায় দুই যুগ আগে এই ব্রিজটি তৈরি করা হয়। এই পথ দিয়ে অনন্ত চার গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় চলাচল করতো রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
কিন্তু সম্প্রতি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান ব্রিজটি ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটির উপরিভাগের পুরোটাই ভাঙার কাজ শেষ। এখন নিচের অংশ ভাঙার কাজ চলছে। ভাঙার পরে এসব ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান।
Advertisement
সেতু ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, তারা চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাজ করছেন। আর ২-৩ দিনের মধ্যে ভাঙার কাজ শেষ হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে নিলাম বা দরপত্র ছাড়াই গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক দিয়ে ব্রিজটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। সব ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন তিনি। আর কোনো রাস্তা না থাকায় রিকশা, ভ্যান নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
তারা আরও বলেন, ব্রিজ ভাঙার নিলাম হলেও সেটা কোনো মাধ্যমে জানার কথা। কিন্তু আমরা এমন কিছু জানি না।
দক্ষিণ রাজিবপুর ওয়ার্ডের সদস্য লিটন মিয়া বলেন, আমার এলাকার ব্রিজ ভাঙলো অথচ আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।
Advertisement
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধোপাডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ওই স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প ধরা হয়েছে। তাই এটি ভাঙা হচ্ছে। ভাঙার অনুমতি আছে কি-না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজ উপজেলা অফিসে আছে। পরে দেখানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনোয়ার আল শামীম/এমএন/এমএস