শিশু ঘুমের মধ্যে হাসছে - এমন দৃশ্য দেখলে যে কারও মন ভরে যায়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, শিশুরা নিষ্পাপ বলেই নাকি তাদের মধ্যে ফেরেশতার ছোঁয়া থাকে, তাই তারা ঘুমের মধ্যেও হাসে। আবার অনেকের ধারণা, শিশুরা নিশ্চয়ই ঘুমের মধ্যে মজার কোনো স্বপ্ন দেখে, তাই এমন হাসি দেখা যায়।
Advertisement
তবে বিজ্ঞান এ বিষয়ে কী বলে?
গবেষণা অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন - শিশুরা আমাদের মতো করে স্বপ্ন দেখে কি না। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়, শিশুর ঘুম কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। এই ধাপগুলো হলো - কোয়ায়েট স্লিপ বা শান্ত ঘুম, ইনডিটারমিনেট স্লিপ বা মধ্যবর্তী অবস্থা এবং অ্যাক্টিভ স্লিপ।
অ্যাক্টিভ স্লিপকে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আরইএম পর্যায়েই মূলত মানুষ স্বপ্ন দেখে। তবে এখানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পর্যায়ে শরীর প্রায় স্থির থাকে, কিন্তু শিশুরা তখন হাত-পা নড়াতে পারে, মুখভঙ্গি বদলায়।
Advertisement
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা মূলত এই অ্যাক্টিভ স্লিপ অবস্থাতেই ঘুমের মধ্যে হাসে। এই সময়ে তারা হাত-পা নড়াতে পারে, ঠোঁট চোষার মতো ভঙ্গি করতে পারে, কপাল বা ভ্রু কুঁচকাতে পারে, এমনকি হালকা হাসিও দিতে পারে।
গবেষকেরা আরও লক্ষ্য করেছেন, অনেক সময় নবজাতক শিশুরা ঘুমের মধ্যেই এমন কিছু জটিল মুখভঙ্গি করে, যা তারা জেগে থাকার সময় তখনো শেখেনি। সে কারণেই অনেক শিশুর জীবনের প্রথম হাসি দেখা যায় ঘুমের মধ্যেই।
কিছু পুরোনো গবেষণায় বলা হয়েছিল, ঘুমের মধ্যে শিশুর হাসি একধরনের রিফ্লেক্স বা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, এই হাসির উৎস শিশুর মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স - যে অংশ চিন্তা ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত।
বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের মধ্যে শিশুর এই স্বতঃস্ফূর্ত হাসি মুখের পেশিগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করে। পাশাপাশি এটি ধীরে ধীরে শিশুর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশেও সহায়তা করে।
Advertisement
তথ্যসূত্র: হেলথ লঅইন, স্লিপ ফাউন্ডেশন
সানজানা রহমান যুথী/এএমপি/এএসএম