মুমিনের জীবনের প্রধান লক্ষ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, তার রহমত লাভ করা। মহান আল্লাহ তাআলা যদি কারো ওপর সন্তুষ্ট হন, রহমত বর্ষণ করেন, তাহলে সে যেমন দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও সফলতা লাভ করে, আখেরাতেও সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে ও চির সুখের জান্নাত লাভ করবে।
Advertisement
এখানে আমরা এমন কিছু আমলের কথা বলছি যে আমলগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার রহমত লাভ করা যায়:
১. ইমান ও তাকওয়াইমান বা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন ও তাকওয়া অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর অপছন্দনীয় কাজ থেকে দূরে থাকা আল্লাহর রহমত লাভ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। যে ব্যক্তি নিজের নফস বা কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর বিধান মেনে চলে, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতের চাদরে ঢেকে নেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার রহমত সব বিষয়ে পরিব্যাপ্ত আর তা আমি তাদের জন্য লিখে দেব যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে, জাকাত দেবে আর যারা আমার নিদর্শনাবলীর প্রতি ইমান আনবে। (সুরা আ'রাফ: ১৫৬)
২. ফরজ ইবাদত পালননামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ফরজ বিধানগুলো পালন করা আল্লাহর কাছাকাছি হওয়ার সিঁড়ি, তার রহমত লাভের উপায়।
Advertisement
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো। (সুরা নুর: ৫৬)
৩. মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়াইসলাম মানুষ এবং মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোর শিক্ষা দেয়। আল্লাহর রহমত পেতে হলে আপনাকে তাঁর সব সৃষ্টির প্রতি দয়ালু হতে হবে। আপনি যখন সৃষ্টি প্রতি দয়া করবেন, সৃষ্টির সেবা করবেন, স্রষ্টা তখন আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, দয়াময় আল্লাহ তাআলা দয়ালুদের ওপর দয়া করেন। আপনারা জমিনে বসবাসকারীদের প্রতি দয়া করুন, আকাশে যিনি আছেন তিনি আপনাদের ওপর দয়া করবেন। (সুনানে তিরমিজি: ১৯২৪)
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলো। রাসুল (সা.) বলেন, একবার এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭)
৪. ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়ামানুষ যখন আল্লাহর ভয় ও আল্লাহর রহমত লাভের আশা নিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তখন আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়।
Advertisement
আল্লাহ তাআলা বলেন, তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে; নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। (সুরা আ’রাফ: ৫৬)
৫. পবিত্র কোরআন চর্চা ও অনুসরণকোরআন আল্লাহ তাআলার প্রেরিত বরকতময় বাণী। মর্ম অনুধাবন করে কোরআনের তিলাওয়াত করলে এবং কোরআনের অনুসরণ করলে আল্লাহ রহম করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, আর এই কিতাব—যা আমি নাজিল করেছি—বরকতময়। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, যেন তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও। (সুরা আনআম: ১৫৫)
৬. মনোযোগ দিয়ে কোরআন শোনাকুরআন পাঠ করা ও কোরআনের বিধান অনুসরণ করা যেমন রহমত লাভের মাধ্যম, কেউ কোরআন তিলাওয়াত করলে চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনাও আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যেন তোমরা রহমত লাভ করো। (সুরা আ'রাফ: ২০৪)
৭. বেশি বেশি ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনাইস্তেগফার বা আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা যেমন গুনাহ ক্ষমা করে দেন, বান্দার ওপর বিশেষ রহমতও বর্ষণ করেন। দুনিয়ায় ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততিসহ সব ক্ষেত্রে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা। (সুরা নুহ: ১০-১২)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তাঁর দিকে ফিরে এসো, তাহলে তিনি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবন সামগ্রী ভোগ করতে দেবেন, আর অনুগ্রহ লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিনি তাঁর অনুগ্রহ দানে ধন্য করবেন। (সুরা হুদ: ৩)
ওএফএফ