ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অবরোধ রুখতে আবারও যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এবার আরও বড় পরিসরে স্পেনের বার্সোলনা উপকূল থেকে রোববার (১২ এপ্রিল) যাত্রা শুরু করার খবর প্রকাশ করেছে প্যালেস্টাইন ক্রনিকলস।
Advertisement
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার তথ্য মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০টির বেশি নৌযান এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছেন। এই মিশন শুধু সমুদ্রপথে প্রতীকী প্রতিবাদ নয় বরং বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচির অংশ। এর মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ, সংহতি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দেশে জনমত গঠনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও তারা জানিয়েছে, এই মিশন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি সিভিল সোসাইটি, আইন বিশেষজ্ঞ ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে। এতে ‘গ্রিন পিস’ ও ‘ওপেন আর্মস’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ রয়েছে এবং বার্সেলোনা সিটি প্রশাসনও সমর্থন দিচ্ছে।
Advertisement
বন্দর এলাকায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, বহু নৌযানে খাদ্য, ওষুধ, স্কুলব্যাগ ও শিশুদের জন্য শিক্ষা সামগ্রীসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তোলা হচ্ছে। এবারের ফ্লোটিলা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়- ৭০টি দেশের প্রায় ১,০০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নিচ্ছেন।
ফ্লোটিলার মুখপাত্র পাবলো কাস্টিলা বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা দাবি করা এবং সমুদ্র ও স্থলপথে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ও লেবাননের পরিস্থিতির কারণে গাজার সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগ থেকে কিছুটা সরে গেছে। এই সুযোগে সেখানে অবরোধ আরও কঠোর করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা যাত্রা করেছিল। সে যাত্রায় অংশ নিয়েছিল ৪২টি নৌযান ও ৪৬২ জন মানবতাবাদী। তখন এ ফ্লোটিলা বহরকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই ঘটনায় শতাধিক কর্মীকে আটক করে পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
Advertisement
২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে তীব্র মানবিক সংকট চলছে। গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে অবকাঠামো, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক সেবা ও আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ হামলা এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২৮ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৮৪ জন যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
কেএম