দেশজুড়ে

রোগীর চাপ চারগুণ বেড়েছে খুলনা শিশু হাসপাতালে

খুলনা শিশু হাসপাতাল। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা এ হাসপাতালে বেড়েই চলেছে। খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাসপাতালের আউটডোর এবং ইনডোরে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ হাসপাতালে থাকছে রোগীর চাপ।

Advertisement

খুলনা শিশু হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসক ও সেবিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠান্ডা-গরমের এই সময়টাতে মৌসুমী রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এই সময়টাতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া আর জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে বেশি রোগী আসছেন। হামের রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকে ভর্তি হওয়ার পর হাম ধরা পড়ছে। তাদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে বর্তমানে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগেও রোগীর চাপ তুলনামূলক কয়েকগুণ বেড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ৬০০-৭০০ রোগী আসছেন। আর ইনডোরে ২৭৫টা বেডে গত প্রায় দুই মাস ধরে সবসময় ভর্তি রোগী থাকছে। বেডের বাইরে রোগী রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে হামের রোগীর আউটডোরে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক রোগীর ভিড় থাকায় চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু হাসপাতাল শিশুদের জন্য ভালো, বিধায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে নিয়ে এখানে আসছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। প্রায় অভিভাবক জ্বর সর্দি কাশি ও ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে আসছেন।

Advertisement

খুলনার দিঘলিয়া থেকে আসা আদিবার অভিভাবক জানান, আদিবার বয়স সাড়ে তিন বছর। ইপিআই টিকা তার দেওয়া আছে। কিন্তু শরীরে গোটা গোটা রেশ দেখা দিয়েছে। হাম না হলেও মনের শংকা থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় ৭ দিন পর তাকে আসতে বলেছেন।

খুলনা নগরীর মিস্ত্রিপাড়া থেকে আসা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার নাতনির ডায়রিয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুইদিন হয়েছে তার নাতনিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

আরেক রোগীর মা তাসনিমা বলেন, আমার সন্তান শান্তর বয়স সাড়ে তিন বছর। বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ওঠানামা করছে। এজন্য সকালে শান্তকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে বলছে, গুরুতর কিছু না। চিকিৎসক অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম লাগাতে নিষেধ করেছেন। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে প্রতিদিনই রোগীর চাপ পূর্বের তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি থাকছে। আমরা সবাইকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

Advertisement

তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুমী রোগ যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী বেশি আসছেন। তবে হাম ছোঁয়াচে, বিধায় এখানে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বা অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বহির্বিভাগে আসা হামের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে শিশুদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সন্দেহজনক কিছু মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।

আরিফুর রহমান/এফএ/এমএস