রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সহিংসতার মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পর্যায়ের তিন নেতার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।
Advertisement
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিয়াম রহমান (২৮), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ নেতা মো. মাহবুবর রহমান মাহবুব (২৭) এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ লাভলু (২০)।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল আদালতের আদেশে তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, ১৮ জুলাই ২০২৪ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শাহবাগ থানাধীন প্রেসক্লাবের সামনে সেগুনবাগিচা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
Advertisement
অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জন মিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ইট, কাঁচ, কাচের বোতল, কাঠ, পাইপ, লোহার রড, লাঠি, রামদা, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হেলমেট পরিহিত অবস্থায় গুলি চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলার ফলে বহু শিক্ষার্থী ও পথচারী আহত হন। মামলার বাদী দাবি করেন, আসামিদের গুলিতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এছাড়া তার সহযোদ্ধা অপূর্ব ফাইম অপু, আরাফাত, জিহাদ, হাসান, পারভেজসহ আরও ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন। নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আন্দোলন নস্যাৎ করতে এ হামলা চালায় এবং তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ইন্ধনদাতা ও মদতদাতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
Advertisement
এমডিএএ/কেএইচকে