কাহিনীর প্রধান চরিত্র ‘খোকন’ একটি ছোট ছেলে। স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে খোকন বাথরুমে যায়। কিন্তু স্কুলের দপ্তরি বিষয়টি খেয়াল না করে বাইরে থেকে বাথরুমে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর চলে নানা নাটকীয়তা। খোকনকে খোঁজা হয় সম্ভাব্য সব জায়গায়, বাকি থাকে কেবল তার নিজের বিদ্যালয়। এদিকে একমাস বাথরুমে আটকে থেকে নানা উপায়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষমেশ মারা যায় শিশুটি।
Advertisement
১৯৮০ সালে নির্মিত ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমাটি একটি কালজয়ী ও হৃদয়স্পর্শী সিনেমা। যা আজও মানুষের হৃদয়জুড়ে রয়েছে। সেই ছুটির ঘণ্টা সিনেমার কাহিনীই এবার ঘটে গেছে মেহেরপুরে। তবে শিশুটি বেঁচে আছে। আটকা পড়ার আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তাকে।
মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া। এরপর সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে থেকে আতঙ্কে কাটায় শিশুটি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিদ্যালয়ের ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যান। এসময় বাথরুমে থাকা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ভেতরেই আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় চিৎকার ও কান্নাকাটি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে তার চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
Advertisement
এদিকে নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ নিতে আসেন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হলেও ভবনের কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় শিশুটিকে দ্রুত বের করা সম্ভব হয়নি।
এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যকে ডেকে আনেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার উপস্থিতিতে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল।
ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোন রিসিভ না করে কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
Advertisement
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, শিশুটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় ছুটির আগে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও বাথরুম তল্লাশি ছাড়াই তালাবদ্ধ করার মতো অবহেলা কীভাবে ঘটলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আসিফ ইকবাল/এফএ/এমএস