অর্থনীতি

পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণে সৃষ্ট সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি বিজিএমইএ সভাপতির

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণের ফলে তৈরি হওয়া সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ বিষয়টি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক খাতের বহু প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ এসব ব্যাংকে আটকে রয়েছে। এতে অনেক কারখানা তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান আর্থিক চাপের কারণে অনেক কারখানা ‘সিক ইন্ডাস্ট্রি’-তে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই বিষয়টি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।

Advertisement

শিল্পায়নের টেকসই অগ্রগতির জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্প ও বিনিয়োগ উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নীতির আকস্মিক পরিবর্তন।

তার মতে, শিল্পকারখানা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ নীতি পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করে এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। এ পরিস্থিতি উত্তরণে অন্তত পাঁচ বছরের নীতিগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে উদ্যোক্তারা স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে একক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ জরুরি। পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ না হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশেষ করে রুফটপ সোলার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, পোশাক ও বস্ত্র খাত ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার ব্যবহারে অগ্রসর হয়েছে এবং আরও প্রণোদনার মাধ্যমে এ খাতকে বিস্তৃত করা সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিতে ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থাকে সোলার প্রযুক্তিতে রূপান্তর করলে ব্যয় কমবে এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Advertisement

তিনি বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন, বিশেষ করে হুইলিং চার্জ ও বিলিং ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ও টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে শিল্পের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হয় এবং ব্যবসার ব্যয় কমে আসে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প বিকাশের প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এতে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং ম্যানমেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে যাতায়াত সময় কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দক্ষতা বাড়বে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক নীতি সহায়তা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।

আইএইচও/এমএএইচ/