১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। যেগুলোকে গোল অব দ্য সেঞ্চুরি হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়া হয়ে থাকে।
Advertisement
কিন্তু একই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যারাডোনা যে আরও একটি অবিশ্বাস্য গোল করেছিলেন, তার কথা ক’জনই বা মনে রেখেছে? সেই অবিশ্বাস্য গোলটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা শিল্প হিসেবে বিবেচিত। দেখে নিন কিভাবে বেলজিয়ান রক্ষণভাগকে একাই তছনছ করে দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন এই কিংবদন্তি।
ম্যাচ প্রোফাইলখেলোয়াড়: দিয়েগো ম্যারাডোনাম্যাচ: আর্জেন্টিনা বনাম বেলজিয়ামটুর্নামেন্ট: মেক্সিকো ১৯৮৬। সেমিফাইনালভেন্যু: এস্তাদিও আজতেকা, মেক্সিকো সিটি
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক একটি ছবি হলো- দিয়েগো ম্যারাডোনার বাঁ-পায়ের নিচে অ্যাডিডাস ট্যাঙ্গো বল, আর তার সামনে ভয়ে কুঁকড়ে আছেন ছয়জন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। যদিও ১৯৮২ সালের সেই ছবিটি কিছুটা দৃষ্টিভ্রম ছিল (ম্যারাডোনা ফ্রি-কিক থেকে পাস নিয়ে কেবল বেলজিয়ান দেয়ালের দিকে তাকাচ্ছিলেন), তবে তার ঠিক চার বছর পর ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেই তিনি যা করেছিলেন, তাতে কোনো দৃষ্টিভ্রমের অবকাশ ছিল না।
Advertisement
সেদিন গোলপোস্টের দিকে পিঠ দিয়ে গোল থেকে প্রায় ৪০ গজ দূরে বলের দখল নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। জিন-মারি পাফের গোলপোস্টে পৌঁছানোর পথে তখন চারজন ডিফেন্ডার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের টপকে যাওয়ার মতো নূন্যতম কোনো ফাঁকা জায়গাও দৃশ্যমান ছিল না।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে যা বিপদ, ম্যারাডোনার কাছে তা ছিল স্রেফ উপভোগের মুহূর্ত। এই ভিনগ্রহী ফুটবলার জর্জেস গ্রুন, স্টিফেন ডেমোল এবং প্যাট্রিক ভারভোর্টের মাঝখানের একটি প্রায় অস্তিত্বহীন ফাঁক দিয়ে সাপের মতো গলে বেরিয়ে যান। এরপর এক বিস্ফোরক গতিতে এরিক গেরেটসকে বাঁ-দিকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে জিন-মারি পাফকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।
ম্যারাডোনার সেই ব্যালেরিনার মতো সাবলীল পা দুটি যেমন নিখুঁত ফিনিশিং দিয়েছিল, তেমনি একজন জিমন্যাস্টের মতো শরীরের ভারসাম্য তাকে গোল উদযাপনের সময় পড়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করেছিল।
মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ম্যারাডোনা দুটি জোড়া গোল (ব্রেস) করেছিলেন। এই দ্বিতীয় গোলটি, যা আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের টিকিট এনে দিয়েছিল, সেটি অনেকের মতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা তার প্রথম গোলটির চেয়েও শৈল্পিক বিচারে ছিল সেরা।
Advertisement
আইএইচএস/