লাইফস্টাইল

একান্ত সময় কাটাতে গিয়ে কি আবারও স্ক্রিনের ফাঁদেই পড়ছেন?

দিনের শেষে একটু নিজের মতো সময় কাটানোর ইচ্ছা নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে চাই আমরা অনেকেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই সময়টুকুও চলে যায় মোবাইল স্ক্রল করতে করতে।

Advertisement

এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিও, এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্ট - চোখ সরাতে পারলেও মন যেন আটকে থাকে স্ক্রিনেই। পরে মনে হয়, সময়টা নিজের জন্য রাখার কথা ছিল, অথচ কিছুই করা হলো না।

এই অভ্যাসটিকে অনেকেই শুধু সময় নষ্ট হিসেবে দেখেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা - যা আমাদের বারবার স্ক্রিনের দিকে টেনে নেয়।

কেন একান্ত সময়েও স্ক্রিনে ফিরে যাই?

১. ডোপামিনের টানসোশ্যাল মিডিয়া বা শর্ট ভিডিও আমাদের মস্তিষ্কে দ্রুত আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ছোট ছোট, দ্রুত পরিবর্তিত কনটেন্ট মস্তিষ্ককে বারবার উত্তেজিত করে - যাকে বলা হয় ডোপামিন লুপ। ফলে আমরা সহজেই এতে আটকে যাই।

Advertisement

২. মানসিক ক্লান্তি থেকে পালানোর চেষ্টাদিনভর কাজের পর মন যখন ক্লান্ত থাকে, তখন গভীর কোনো কাজ (যেমন বই পড়া বা চিন্তা করা) কঠিন মনে হয়। স্ক্রিন তখন সহজ অপশন হয়ে ওঠে - যেখানে ভাবতে হয় না, শুধু দেখলেই চলে।

৩. একাকীত্ব এড়ানোর প্রবণতাএকান্ত সময় মানেই নিজের চিন্তার সঙ্গে থাকা। অনেক সময় এই চিন্তাগুলো অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই আমরা অজান্তেই স্ক্রিন ব্যবহার করে সেই অনুভূতি এড়িয়ে যাই।

৪. অভ্যাসে পরিণত হওয়াএকবার স্ক্রিনে সময় কাটানোর অভ্যাস তৈরি হলে, একান্ত সময় মানেই মোবাইল - এমন একটি স্বয়ংক্রিয় আচরণ তৈরি হয়।

এর প্রভাব কী?

>> মনোযোগের ক্ষমতা কমে যায়>> ঘুমের মান খারাপ হয়>> নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস হারিয়ে যায়>> দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়তে পারে

Advertisement

কীভাবে এই চক্র থেকে বের হবেন?

১. ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন: একান্ত সময়ের প্রথম ১০-১৫ মিনিট স্ক্রিন ছাড়া কাটানোর চেষ্টা করুন।২. বিকল্প তৈরি করুন: বই পড়া, ডায়েরি লেখা, গান শোনা—স্ক্রিনের বাইরে কী করবেন, আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন।৩. স্ক্রিনকে দূরে রাখুন: নিজের সময়ের মধ্যে মোবাইল হাতের নাগালের বাইরে রাখলে ব্যবহার কমে।৪. নিজের অনুভূতিকে এড়িয়ে যাবেন না: চুপচাপ বসে থাকাও এক ধরনের মানসিক বিশ্রাম। সবসময় কিছু না কিছু করতে হবে - এই চাপ কমান।

একান্ত সময় মানে শুধু একা থাকা নয়, বরং নিজের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। যদি সেই সময়টুকুও স্ক্রিন দখল করে নেয়, তাহলে মন ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই সচেতনভাবে ছোট পরিবর্তন আনলেই এই অভ্যাস থেকে বের হওয়া সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/জেআইএম