খেলাধুলা

এক হাজার একটি সমস্যায় জর্জরিত রিয়াল মাদ্রিদ!

অলৌকিক কিছু ঘটে না গেলে স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা এবার জিততে যাচ্ছে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে যাবে দ্বিতীয় স্থানেই। কারণ, বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্টের ব্যবধান ৯। রাউন্ড বাকি আরও ৭টি।

Advertisement

শেষ পর্যন্ত লা লিগা শিরোপা না জিতলে রিয়াল মাদ্রিদকে এবারের মৌসুমটা শেষ করতে হবে পুরোপুরি শূন্য হাতেই। কারণ, এরই মধ্যে কোপা ডেল রের শিরোপা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে তারা বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে। নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার কারণে মাদ্রিদ ভিত্তি পত্রিকা মার্কা শিরোনাম করেছে, ‘নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে এক হাজার একটি সমস্যায় জর্জরিত রিয়াল মাদ্রিদ।’

মৌসুমের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে রিয়াল; কিন্তু পরিস্থিতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। সাত ম্যাচ বাকি থাকতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়ালের সামনে টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিশূন্য থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে এই মৌসুমের বাকি অংশ থেকে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কোচ আলভারো আরবেলোয়র ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; বড় কোনো চমক না ঘটলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব।

কার্লো আনচেলত্তির অধ্যায় শেষ হওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ বুঝতে পারে যে দলের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই ট্রান্সফার মার্কেটে চারজন নতুন খেলোয়াড় আনা হয়, যার মধ্যে তিনজনই ডিফেন্সে। খরচের দিক থেকে ডিন হুইসেনকে (৬২ মিলিয়ন ইউরো, এএফসি বোর্নমাউথ থেকে), আলভারো ক্যারেরাসকে (৫০ মিলিয়ন ইউরো, বেনফিকা থেকে) এবং ট্রেন্টকে ফ্রি ট্রান্সফারে আনা হলেও ক্লাব বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য প্রায় ৫-১০ মিলিয়ন ইউরো দিতে হয়েছে লিভারপুলকে। অন্যদিকে সবচেয়ে আলোচিত সাইনিং ছিল রিভার প্লেটের তরুণ প্রতিভা রিভারপ্লে থেকে আসা মাস্তান্তুয়ানো, যার জন্য প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করা হয়।

Advertisement

তবে মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে, প্রথম একাদশে জায়গা পান শুধুমাত্র ট্রেন্ট। মাস্তান্তুয়ানো নামেন ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে, অলৌকিক কিছু করার আশায়, আর হুইসেন ও ক্যারেরাসের দেখা মেলেনি। এই চিত্রটাই পুরো মৌসুমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে- নতুন স্বাক্ষর করে আসাদের কেউই নিজেদের পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। এমনকি ট্রেন্টও, যিনি শেষের দিকে কিছুটা জায়গা করে নেন, তিনিও সমালোচনা থেকে মুক্ত নন। বার্নাব্যুর দর্শকদের শিসও শুনতে হয়েছে অনেককেই।

কোচ জাবি আলোনসো শুরুতে এই তিন ডিফেন্ডার ও মাস্তান্তুয়ানোর ওপর ভরসা রেখেছিলেন। রুডিগার ও মিলিতাও ইনজুরিতে থাকায় তরুণ হুইসেন দ্রুত সুযোগ পান এবং শুরুতে ভালোই করেন। স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করায় তাকে নিয়ে প্রশংসাও ছিল। কিন্তু অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা ফেরার পর এবং বড় ম্যাচে কিছু ভুলের কারণে মৌসুমের শেষদিকে তার গুরুত্ব কমে যায় এবং দর্শকদের সমালোচনার মুখে পড়েন।

ক্যারেরাসের ক্ষেত্রেও একই গল্প। বেশিরভাগ সময় প্রথম পছন্দ হলেও ডার্বি বা বায়ার্নের বিপক্ষে প্রথম লেগে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে পুরো মৌসুমে মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলা ফারল্যান্ড মেন্ডি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচের আস্থা অর্জন করেন।

ট্রেন্টের প্রথম মৌসুমও সহজ ছিল না। ইনজুরির কারণে ধারাবাহিকতা পাননি। ডিফেন্সে দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আর তার আক্রমণাত্মক গুণ- লং পাস, ক্রস বা রান- শেষের দিকে কিছুটা দেখা গেলেও তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে।

Advertisement

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মাস্তান্তুয়ানোর পারফরম্যান্সে। মৌসুমের শুরুতে জাবি আলোনসোর সেরা রিয়ালে তিনি নিয়মিত খেলতেন। আক্রমণে খুব উজ্জ্বল না হলেও তার পরিশ্রম ও অবদান প্রশংসিত ছিল; কিন্তু ধীরে ধীরে তার পারফরম্যান্স নেমে যায় তলানীতে। ক্লাসিকোর একাদশ থেকে বাদ পড়েন এবং পরে কুঁচকির চোটে পড়েন। পুরোপুরি ফিট না থাকায় নিজের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন।

কোচ হিসেবে আলভারো আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। গেটাফের বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরি টাইমে লাল কার্ড দেখে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হন আর্জেন্টাইন এই তরুণ তারকা, যা তার অবস্থান আরও দুর্বল করে। ডান প্রান্তে নিজের জায়গা খুঁজে পাননি, আর মাঝমাঠে তার পছন্দের জায়গায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, মাস্তান্তুয়ানোকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে ক্লাব। প্রথম মৌসুমকে মানিয়ে নেওয়ার সময় হিসেবেই ধরা হচ্ছে। শক্তিশালী দল গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন- এমনটাই আশা রিয়াল মাদ্রিদের।

আইএইচএস/