হরমুজ প্রণালীতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। আটকৃত জাহাজের মধ্যে একটি ইসরায়েলি পণ্য পরিবহনকারী এবং অপরটি গ্রিসের বলে জানা গেছে যা মূলত ভারতগামী একটি কন্টেইনার জাহাজ। আটকের পর জাহাজ দুটিকে ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Advertisement
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে বলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ( আইআরজিসি) এর বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জাহাজ দুটি হলো এমএসসি ফ্রান্সিসকা এবং ইপামিনোদেস। আইআরজিসি দাবি করেছে, এমএসসি ফ্রান্সিসকা ইসরায়েলি পরিবহন সংশ্লিষ্ট।
জানা গেছে, গ্রিক টেকনোমার শিপিং কোম্পানির ইপামিনোদেস জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ইরানি বাহিনীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আজতাক বাংলার খবরে বলা হয়েছে।
Advertisement
আইআরজিসি-এর মতে, জাহাজগুলো অনুমোদন ছাড়া চলাচল করছিল, বারবার নিয়ম ভঙ্গ করছিল। একই সঙ্গে নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থার সাথে কারচুপি করে গোপনে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
সংস্থাটি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজ দুটি শনাক্ত করে আটক করা হয় এবং ইরানের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষার অংশ হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে জাহাজগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় নিয়ে গিয়ে তাদের পণ্য ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলায় মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে ।নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন দফায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে।
Advertisement
পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত করে। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
কেএম