খেলাধুলা

সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক মিরাজের, আর কয়জনের আছে এমন কীর্তি

অধিনায়ক হিসেবে শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশসহ টানা ৪ ওয়ানডে সিরিজ হার। এরপর তার নেতৃত্বেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। দলপতি হিসেবে টানা ৪ সিরিজ হারের পর টানা ৩ সিরিজ জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের পর এবার শিকার নিউজিল্যান্ড। সিরিজ জয়ের এই হ্যাটট্রিককে ‘বিশাল’ অর্জন বলছেন মিরাজ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান আর গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সিরিজ জেতে টাইগাররা। বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মিরাজ।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে খুব বেশি অধিনায়ক নেই যারা টানা তিন বা তার বেশি সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছেন। প্রথমবার এই কৃতিত্ব গড়েন হাবিবুল বাশার সুমন। যিনি ২০০৭ সালে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জেতান বাংলাদেশকে। এরপর ২০০৯ সালে একই কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে মাশরাফি বিন মুর্তজা’র অধিনায়কত্বে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তিনি টানা ছয়টি সিরিজ জয়ের নজির গড়েন এবং ২০১৮ সালেও আবার টানা তিনটি সিরিজ জিতেছিলেন। পরে তামিম ইকবাল’এর নেতৃত্বে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জেতে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ। সর্বশেষ সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যার অধিনায়কত্বে ২০২৫-২৬ সময়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে, টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয়, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতেছে, এটাই অনেক বড় অর্জন।’

Advertisement

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতলেও পরের ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিজেদের করে নিতে হয়েছে টাইগারদের। এই সিরিজেও শেষ ম্যাচে সিরিজ নির্ধারনী হলেও এবার চাপ ছিল বেশি। প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় টানা দুই ম্যাচ জিততে হতো। মিরাজের দল সেটাই করে দেখিয়েছে।

প্রথম ম্যাচ হারার নকআউট হিসেবেই বাকি দুই ম্যাচ চিন্তা করেছেন মিরাজ, ‘প্রথম ম্যাচ হারার পরে আমি যেটা চিন্তা করেছি, আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, সেখানে নকআউট যে খেলাগুলো হয়, হারলেই বাদ…আমি মানসিকভাবে ওভাবেই জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি, পরের ম্যাচে যদি হেরে যাই, সিরিজ হেরে যাব। এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ হবে। আমি ওভাবেই চিন্তা করেছি।’

এসকেডি/আইএন

Advertisement