দেশজুড়ে

সিজারের সময় ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

নেত্রকোনা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ফজিলা আক্তার (৩৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার ‘নিউ লাইফ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে’ এই ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ফজিলা আক্তার (৩৮) সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী। এর আগে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে প্রসূতি ফজিলাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল তিনটার দিকে ফজিলা আক্তারকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে রেখে অন্য একটি ক্লিনিকে চলে যান। এতে অপারেশনের সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথে তার মৃত্যু হয়। ওই নারীর এর আগে একটি মেয়ে ও জমজ দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

Advertisement

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইনি চিকিৎসক শাহিন সুলতানা এবং অবেদন (অ্যানেসথেশিয়া) প্রদানকারী চিকিৎসক ইরফাত যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নাম প্রকাশ না সত্ত্বে প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বলেন, ফজিলা আক্তারকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর দুই চিকিৎসক চলে যান। মনে হয় তারা সেলাই না করে সহকারীকে দায়িত্ব দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর অপারেশন থিয়েটার থেকে হাসপাতালের পরিচালক আবির হোসাইন বের হয়ে জানান, ফজিলার খিঁচুনি হচ্ছে, অবস্থা খারাপ। তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ঘটনার পর রাতে হাসপাতালটিতে গিয়ে মালিকপক্ষ, চিকিৎসক বা নার্স কাউকেই পাওয়া যায়নি। পুরো হাসপাতাল ছিল জনশূন্য।

এদিকে আজ শুক্রবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করার চেষ্টা চলছে। এমনকি এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় নিহতের স্বামী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

Advertisement

জানতে চাইলে দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল সরকার বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রেটিতে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন মো. গোলাম মৌলা, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচ এম কামাল/কেএইচকে/জেআইএম