মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট চলছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়।
Advertisement
ভাড়া বাড়ানোর প্রভাব জনজীবনে পড়ার কথা থাকলেও এখনো তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে রাজধানীর গণপরিবহনে। আগের নির্ধারিত ভাড়ায় এখনো যাত্রী পরিবহন করছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজধানীর গণপরিবহনে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরাও।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও আগারগাঁও এলাকা ঘুরে গণপরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও যাত্রীদের কাছ থেকে নামমাত্র কার্যকর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে পারায় আগের তুলনায় গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দৈনিক অতিরিক্ত এক হাজার খরচ হচ্ছে বলেও ভাষ্য তাদের।
Advertisement
পল্টনগামী যাত্রী মাহিম বলেন, আমরা দুজন মিরপুর থেকে এসেছি। গাড়িতে ভাড়া বেশি নেয়নি। আগে যে ভাড়া ছিল সেই ভাড়াই নিয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কথা হয় স্বপনের সঙ্গে। তিনি সকালে শেওড়াপাড়া থেকে এসেছেন। অফিস শেষ করে আবার শেওড়াপাড়ায় ফিরে যাবেন। তিনি বলেন, সকালে শেওড়াপাড়া থেকে এসেছি। বাসে ভাড়া নিয়েছে ১৫ টাকা। আগেও ১৫টাকা ভাড়া নিতো। ভাড়া বেশি নেয়নি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার বাসপয়েন্টে কথা হয় মিঠুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি যখন আগারগাঁও থেকে আসলাম তখন আগে যে ভাড়াটা নিতো সেই একই ভাড়া নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাড়া বেশি নেওয়া নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি।
বাসে যাত্রী তুলতে চালকের সহকারীর হাঁকডাক/ছবি: জাগো নিউজ
Advertisement
গাবতলী লিংক (৮ নম্বর পরিবহন) বাসের চালকের সহকারী বলেন, আগের ভাড়াই নিচ্ছি। এখনো গাড়িতে ভাড়া বাড়ানো হয়নি।
তেলের দাম বৃদ্ধি কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যাতো হচ্ছেই। তেলের দাম বেড়েছে। গাড়ি প্রতি প্রতিদিন অন্তত এক হাজার টাকা খরচ বেড়েছে, কিন্তু গাড়ি ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি। প্রতিদিন ১০০ টাকা লস হচ্ছে।
এয়ারপোর্ট পরিবহনের চালকের সহকারী সুমন শেখ বলেন, এখনো আগের ভাড়া। মালিকপক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কিছু বলেনি আমাদের। কোনো চার্টও পাইনি, ভাড়া বাড়ানো হয়নি।
তবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তেলের পেছনে ৬০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই তেলের টাকাটায় লস হচ্ছে।
শেকড় পরিবহনের চালকের সহকারী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ বিষয়ে আমাদের দু-একদিনের মধ্যে জানাবে।
তিনি বলেন, মিরপুর ১১/১২ থেকে কারওয়ান বাজারের ভাড়া ছিল ২৫ টাকা। আর ১০ নম্বর থেকে ২০ টাকা। এখনো আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
ওয়েলকাম পরিবহনের চালকের সহকারী মো. শুক্কুর আলী বলেন, আমরা আগের ভাড়ায় গাড়ি চালাচ্ছি। এখনো ভাড়া বেশি নিচ্ছি না।
তিনি বলেন, পাবলিক আরও ৫/১০ টাকা ভাড়া কম দিচ্ছে। যেখানে ৮০ টাকা ভাড়া সেখানে ৭০ টাকা ৬০ টাকাও ভাড়া দিচ্ছে মানুষ।
এদিকে, এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। জানানো হয়, এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ছবি: জাগো নিউজ
এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ভাড়া ২ টাকা ৪২ থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আন্তজেলার বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। এছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এলাকার ক্ষেত্রে ২ টাকা ৩২ পয়সা ভাড়া ছিল। অর্থাৎ ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকার এই ভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া আগের ১০ টাকাই বহাল রয়েছে।
এই হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ভাড়া ৪.৫ শতাংশ, আন্তজেলায় ৫.১ শতাংশ ও ডিটিসিএ এলাকায় ৪.৭ শতাংশ বেড়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চ মাসেও বহাল থাকে।
এর আগে, সবশেষ ৭ এপ্রিল বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। বিইআরসি ঘোষিত দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা করা হয়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) নির্ধারণ করা হয়।
কেআর/এমএমকে