বলিউডে বিয়ে মানেই সাধারণত জমকালো আয়োজন, ক্যামেরার ঝলক, সামাজিক রীতি আর বিশাল প্রত্যাশার চাপ। তবে এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে নিজেদের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং এবং প্রযোজক-অভিনেতা জ্যাকি ভাগনানি। বিয়ের পর তারা নিজেদের সম্পর্ককে ‘সিচুয়েশনশিপ’ বলে উল্লেখ করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
Advertisement
সাধারণভাবে ‘সিচুয়েশনশিপ’ বলতে এমন সম্পর্ক বোঝানো হয় যেখানে কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা, নাম বা প্রতিশ্রুতির কাঠামো থাকে না। কিন্তু রাকুল ও জ্যাকি তাদের ক্ষেত্রে এই শব্দটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, এটি অনিশ্চয়তা নয়, বরং সম্পর্ককে অতিরিক্ত সামাজিক চাপ থেকে মুক্ত রাখার একটি সচেতন চেষ্টা। তারা মনে করেন, সম্পর্ককে যত বেশি স্বাভাবিক রাখা যায়, তত বেশি সেটি টেকসই হয়।
তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খোলামেলা যোগাযোগ। তারা একে অপরের সঙ্গে সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন, এমনকি অতীত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করতে দ্বিধা করেন না। এই স্বচ্ছতা তাদের মধ্যে বিশ্বাসের ভিত্তি আরও শক্ত করেছে। তারা বিশ্বাস করেন, সম্পর্ক মানে একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং বোঝা এবং গ্রহণ করা। এই মানসিকতা তাদের সম্পর্ককে আরও সহজ ও চাপমুক্ত করেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা ব্যক্তিগত পরিচয়কে খুব গুরুত্ব দেন। অর্থাৎ বিয়ের পরও নিজ নিজ ক্যারিয়ার, লক্ষ্য এবং আত্মপরিচয় ধরে রাখাকে তারা জরুরি মনে করেন।
Advertisement
তারা মনে করেন সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় চাপ তৈরি করে। তাই তারা সম্পর্ককে খুব ‘পারফেক্ট’ করার চেষ্টা করেন না। বরং বাস্তবতা মেনে নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে চলাকেই তারা গুরুত্ব দেন।এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া বা অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন কম হয় বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা সম্পর্ককে প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে সহযোগিতার জায়গা হিসেবে দেখেন।
ইতিবাচক দিক ও সমালোচনার জায়গাতাদের এই আধুনিক সম্পর্কের ধারণা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মনে করে, সম্পর্ককে এতটা চাপমুক্ত ও বাস্তবভিত্তিকভাবে দেখা ইতিবাচক পরিবর্তন।
তবে এই ধারণার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটি বিবাহিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কারণ বিয়ে নিজেই একটি আইনগত ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত প্রতিশ্রুতি। সেখানে সম্পর্কের সংজ্ঞা অস্পষ্ট করলে বাইরের মানুষ বা এমনকি দম্পতির মধ্যেও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত স্বাধীনতার ওপর জোর দিলে অনেক সময় আবেগগত দূরত্ব তৈরি হতে পারে। সম্পর্ক যদি শুধুই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ কমে যেতে পারে। সব মানুষ এই ধরনের আধুনিক সম্পর্কের ধারণা বুঝতে বা মানিয়ে নিতে সক্ষম নাও হতে পারেন। ফলে পারিবারিক বা সামাজিক স্তরে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
Advertisement
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য জীবনে ‘সিচুয়েশনশিপ’ ধারণা সরাসরি প্রয়োগ করা ঠিক নয়, কারণ বিয়ে একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিভিত্তিক সম্পর্ক। তবে এর কিছু ইতিবাচক দিক যেমন স্বাধীনতা, খোলামেলা যোগাযোগ ও চাপমুক্ত মানসিকতা গ্রহণ করা যেতে পারে। সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, দায়িত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও স্পষ্ট যোগাযোগ। এই চারটি বিষয় বজায় থাকলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর হয়। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, সাইকোলজি টুডে, ভেরিওয়েল মাইন্ড
আরও পড়ুন: প্রথম প্রেমে পড়ার অনুভূতি কেন আজীবন মনে থাকে এখন নারীরা কেন একা থাকতে পছন্দ করেএসএকেওয়াই