জাতীয়

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে জমজমাট বৈশাখী মেলা

চট্টগ্রাম নগরের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘি ময়দানে শনিবার (২৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। বলীখেলার এবারের আসরকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) উদ্বোধন করা হয় দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার। বাহারি পণ্যের সমাহার আর বৈশাখী আবহে জমে উঠেছে এবারের মেলা।

Advertisement

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন হলেও দুই দিন আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দোকান সাজিয়ে বসেন মেলা প্রাঙ্গণে। আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ এলাকা থেকে লালদীঘি মোড়, কেসি দে রোড, সিনেমা প্যালেস মোড় হয়ে কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান, মাঝখানে মানুষের ঢল। কোথাও ধীরগতিতে হাঁটছেন দর্শনার্থীরা, কোথাও ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। চারদিকে ভেসে আসছে বাঁশির সুর, আবার কোথাও শোনা যাচ্ছে বিক্রেতাদের হাঁকডাক।

মেলায় বসা দোকান থেকে পছন্দের জিনিসপত্র কিনছেন ক্রেতারা/ছবি: জাগো নিউজ

Advertisement

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার অনেকে একাই ঘুরে দেখছেন। কারও হাতে কেনাকাটার ব্যাগ, কারও চোখে শুধু ঘোরাঘুরির আগ্রহ।

বিকেল গড়ালে ভিড় আরও বাড়ছে, আর সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা রূপ নিচ্ছে এক প্রাণবন্ত জনসমুদ্রে। স্থানীয়দের মতে, বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা।

চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় বসেছে শত শত অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র, তালপাতার হাতপাখা, কাঠের খেলনা, শীতলপাটি, ফুলের চারা, মণ্ডা-মিঠাইসহ নানা মুখরোচক খাবার। পাশাপাশি গৃহসজ্জার সামগ্রী, দা-বঁটি ও রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দোকানও বসেছে।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। দোকানিদের হাঁকডাকের সঙ্গে শিশুদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ মিলে সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

Advertisement

খুলনা থেকে আসা ঘরের তৈজসপত্রের ব্যবসায়ী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই মেলার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। চট্টগ্রামের মানুষ সৌখিন। এখানে ঘরের বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা আছে। সে জন্য আমরা আসি, বিক্রিও ভালো হয়।

নোয়াখালী থেকে মাটির তৈরি পণ্য নিয়ে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটির তৈরি জিনিস একসময় হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন মানুষ আবার দেশি পণ্যের দিকে আগ্রহী হচ্ছে। ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে মাটির তৈরি জিনিস, সাড়াও পাচ্ছি ভালো।

ছবি: জাগো নিউজ

শুধু বিক্রেতা নয়, ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে এসেছেন কেনাকাটা করতে, কেউ আবার এসেছেন শুধু মেলার আবহ উপভোগ করতে।

নগরের আন্দরকিল্লার বাসিন্দা শামসুন নাহার নামের এক গৃহিণী বলেন, প্রতি বছরই তিনি মেলায় আসেন। মাটির হাঁড়ি, হাতপাখা আর বাচ্চাদের জন্য কিছু খেলনা কিনেছেন এবার। পাশাপাশি ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রও কিনেছেন বলে জানান তিনি।

বোয়ালখালী থেকে আসা জয়নাল আবেদীন বলেন, জব্বারের বলীখেলা শুধু খেলা নয়, এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। এখানে এলে মনে হয় পুরোনো সংস্কৃতি এখনো বেঁচে আছে। আমার পরিবার প্রতিবছর উদগ্রীব হয়ে থাকে এখানে আসার জন্য।

এমআরএএইচ/এমএমকে