জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করে যারা ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত জনগণই প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
Advertisement
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও সেই আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কমুক্ত না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশের সমর্থনে দেওয়া গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। জুলাই সনদকে উপেক্ষা এবং গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া হয়েছে।
Advertisement
তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তার দাবি, সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের কারণে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এই জামায়াত নেতা বলেন, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজি গ্যাসের দাম ৫০০ টাকা (৫৯৯ টাকা) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, অথচ সরকার ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তার অভিযোগ, সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের বেপরোয়া আচরণ শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রশাসনের নীরবতায় সহিংসতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ঘটনার পর যদি সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো, তাহলে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।
Advertisement
১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক ও মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিইসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এমআরএএইচ/ইএ