আন্তর্জাতিক

ইরানি তেল কেনায় চীনের শোধনাগারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার অভিযোগে একটি বড় চীনা তেল শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য নতুন আলোচনার আগে এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Advertisement

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন রাজস্ব দপ্তর জানায়, তারা চীনের দালিয়ানভিত্তিক হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটি চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাধীন বা ‘টিপট’ শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল কিনে তেহরানের জন্য বড় অংকের রাজস্ব তৈরি করেছে, যা ইরানের সামরিক খাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের অংশ হিসেবে কাজ করছে—এমন অভিযোগে প্রায় ৪০টি শিপিং কোম্পানি ও জাহাজের ওপরও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে বেইজিং। চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

Advertisement

চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় এসব ‘টিপট’ শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শানডং প্রদেশভিত্তিক এসব ছোট ও বেসরকারি শোধনাগার তুলনামূলক কম দামে ইরান ও রাশিয়ার তেল আমদানি করে চীনের জ্বালানি সরবরাহ শক্তিশালী করে।

তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থাগুলোর হিসাবে, চীন তার আমদানি করা তেলের অর্ধেকের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে এবং গত বছর ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি বেইজিং কিনেছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে আয় কমিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান যে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে তেল পাঠায়—সেই জাহাজ, মধ্যস্থতাকারী ও ক্রেতাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

Advertisement

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/