চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কুমিল্লার বলী মো. শরীফ, যিনি ‘বাঘা শরীফ’ নামেই বেশি পরিচিত। টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে তিনি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেছেন।
Advertisement
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি একই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলীকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তোলেন।
এর আগে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই বলী ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুইবারই বিজয়ী ছিলেন শরীফ, আর রানারআপ হয়েছিলেন রাশেদ। এবারের আসরেও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো।
২৪ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই দুই বলীর মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। প্রায় ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড ধরে চলা শক্তি, কৌশল ও ধৈর্যের পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত রাশেদকে মাটিতে ফেলতে সক্ষম হন বাঘা শরীফ।
Advertisement
ফাইনালে মো. শরীফ ও রাশেদের তীব্র লড়াই/ছবি: জাগো নিউজ
দর্শকদের গর্জন আর ঢোলের তালে তালে মাঠজুড়ে তখন উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। লালদীঘি মাঠে উপস্থিত হাজারো মানুষ হাততালিতে অভিনন্দন জানান নতুন এই হ্যাটট্রিক নায়ককে।
সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালেএর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রাশেদ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাঘা শরীফের মুখোমুখি হন শাহ জালাল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও রাশেদ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পান মিঠু।
উৎসবমুখর লালদীঘিবিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। বেলুন উড়িয়ে তিনি এবারের আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন।
Advertisement
লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা দুপুর থেকেই ছিল দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে নানা বয়সী মানুষ জড়ো হন ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন দেখতে।
ফাইনালে শেষ হাসি হাসেন কুমিল্লার বলী মো. শরীফ/ছবি: জাগো নিউজ
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে মাঠসংলগ্ন এলাকায় বসা দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায়ও ছিল উপচে পড়া ভিড়। খাবার, খেলনা, মাটির জিনিসপত্র ও গ্রামীণ পণ্যের দোকানে চলে জমজমাট কেনাবেচা।
১১৭ বছরের ঐতিহ্য১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় তা এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০০ এর বেশি বলী অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়। তবে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হাসি হাসেন কুমিল্লার ‘বাঘা’ শরীফ।
এমআরএএইচ/এমএমকে