রপ্তানি আয়ের ওপর ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর ধার্য ও রপ্তানি ভর্তুকির ওপর ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
Advertisement
সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, প্রণোদনার ওপর কর আরোপ হলে সেটা কেমন যেন লাগে। আমি মনে করি, এটি প্রত্যাহার করা যেতে পারে। এটা খুব বড় টাকা না, বাট ইট কন্ট্রাডিক্টস উইথ দি আইডিয়া অব ইনসেন্টিভাইজিং সামবডি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, রপ্তানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ নেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ট্যাক্স আছে। আফটার এক্সপোর্ট আমাদের বাড়তি ট্যাক্স যেটা দেওয়া হয়, সেটা কিন্তু পরের বছর ক্যারি ফরোয়ার্ড হচ্ছে না।
Advertisement
তখন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, আমরা এবার করপোরেট রিটার্নও অনলাইন করেছি। অনলাইনে এগুলো সব অ্যালাউড।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমাদের একটা পণ্য শুরু হয় কটন থেকে, তারপর হয় গ্রে ফেব্রিক, তারপর হয় কালার ফেব্রিক, তারপর হয় আরএমজি। এই ধাপে ধাপে ৩% করে আমরা ১২% বা ১৪% সব মিলিয়ে এরকম টিডিএস আসে। দেখবেন জিনিসটা কিন্তু একটাই, পণ্যটা একটাই। বারবার যখন করা হচ্ছে, এটা একটা বাড়তি লোড হয়ে যাচ্ছে। উই আর লুজিং কম্পিটিটিভনেস।
তিনি আরও বলেন, ম্যান-মেড ফাইবারে অনেক নতুন ফাইবার এসেছে। বহির্বিশ্বে অলমোস্ট ৭০ শতাংশ আরএমজি ইজ প্রি-ডমিনেন্টেড বাই ম্যান-মেড ফাইবার। যেখানে আমাদের বর্তমানে একদমই নেই বললেই চলে। তো আমরা এই সেক্টরে অগ্রসর হতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা চাই। সেখানে আপনার কর দেওয়া আছে বেশ কিছু নতুন ম্যাটেরিয়ালের ওপরে, আমরা সেটা উল্লেখ করেছি। আপনারা যদি ডিআইটিটা বাদ দেন আর শুল্কমুক্ত তো আছেই আপনার বন্ডে আমরা আনতে পারি। তাহলে আমরা এই সেক্টরটাতেও আরেকটু অগ্রসর হতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, সোলার এখন আমাদের দরকার। আমরা খরচ কমাতে চাই, কম্পিটিটিভনেস বাড়াতে চাই। তো একটা সোলার এস্টাবলিশ করতে গেলে বা প্যানেল বসাতে গেলে চারটি এইচএস কোড চাররকম জায়গায় বন্ধ। এটিকে যদি আপনারা একটি এইচএস কোডের আন্ডারে নিয়ে আসতে পারেন, আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয় কাজ করতে।
Advertisement
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সোলারে আমার যতটুকু মনে পড়ে গতবার আমরা সব সুবিধা দিয়ে দিয়েছি। একটা আইটেম শুধু থাকতে পারে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমরা যে ফেব্রিক ইমপোর্ট করি সেখানে আপনার সুতার দামে কাপড় অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এটা তো যৌক্তিক হয় না। ৪ ডলারে অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে ১ কেজি কাপড়। ১ কেজি কাপড় দিয়ে আপনার ২৫-৩০টি ছেলেদের অন্তর্বাস বা জাঙ্গিয়া হয়, লেহেঙ্গা হয়, ঘাগরা হয়। যাই হোক, ওই দিকে যাচ্ছি না। এগুলো সেনসিটিভ প্রোডাক্ট। কিন্তু আপনারই বন্ডের আন্ডারে যদি ৭ টাকা বা ৯ ডলারে আসে, তখন তো তার ট্যাক্স ইভেইড করার কিছু থাকে না, রিয়েল প্রাইসটা দিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আর যখন সে কমার্শিয়ালি ইমপোর্ট করছে, তখন সে ৪ ডলারে আনছে। তো আপনি আপনার বুকস থেকেই সংখ্যাটা নিয়ে নিয়েন। আপনি ওটা এডজাস্ট করে দিয়েন। আমি আর কোনো রেটের প্রস্তাব দিচ্ছি না। কারণ, ইউ হ্যাভ দ্য ইনফরমেশন। আপনারই যে বন্ধুরা যারা গার্মেন্টস ইমপোর্ট করে, ওনারা যে প্রাইসে ইমপোর্ট করে সেটাই আপনি অ্যাসেসমেন্টে দেন। এটা তো দুই রকম হতে পারে না।
বিটিএমএ’র অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- রপ্তানিশিল্পে সহায়তায় মূসক ও অগ্রিম কর মাসভিত্তিক ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করা, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ব্যবহৃত এলপিজি ভ্যাট ও ট্যাক্স অব্যাহতি ইত্যাদি।
এসএম/এমকেআর