ছোট দলের বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালকে মনে করা হতো মাঝারিমানের দল; কিন্তু ২০১৬ সালে ইউরো জয়ের পর এবং বিশ্বের সেরা সেরা ক্লাবগুলোতে পর্তুগিজ ফুটবলারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেশটিতে ফেবারিটের তালিকা তুলে এনেছে। এখন পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখে। শুধু তাই নয়, এবার যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকো থেকে শুধুমাত্র রোনালদোর জন্যই বিশ্বকাপ জিততে চায় তারা।
Advertisement
এ বিষয়ে পর্তুগালের তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার মতে, জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে এখন এমন এক মানসিকতা তৈরি হয়েছে, যা অনেকটা লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ জেতাতে আর্জেন্টিনা যে ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা নিয়েছিল, তারই প্রতিচ্ছবি। লক্ষ্য একটাই- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোবেবিশ্বকাপ জেতানো।
পর্তুগাল এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি। অথচ রোনালদোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় ট্রফিই আছে- ইউরো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিভিন্ন দেশের লিগ শিরোপা, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট- সবই। একমাত্র অপূর্ণতা এই বিশ্বকাপ। অন্যদিকে ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে মেসি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শূন্যতাও পূরণ করেছেন। সে সঙ্গে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে তিনি অনেকটাই এগিয়ে গেছেন বলে মনে করেন অনেকেই।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। যদিও নিজে ইঙ্গিত দিয়েছেন, শারীরিকভাবে সক্ষম থাকলে ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বাস্তবতা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ আসরই তার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে পর্তুগাল দলে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক লক্ষ্যভিত্তিক মানসিকতা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ সম্প্রতি সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ওয়েন রুনিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই বিশ্বকাপ জয় দিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারলে সেটা অবিশ্বাস্য কিছু হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি আমরা সেটা করতে পারব। শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, ফুটবল ও বিশ্বকে ক্রিশ্চিয়ানো যা দিয়েছে, তার জন্যও।’
এ বক্তব্য অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় ২০২২ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা দলের মনোভাবকে। তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ জেতাতে। সেই ঐক্য, সেই লক্ষ্য- শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল।
এবার একই পথ অনুসরণ করতে চাইছে পর্তুগাল। রোনালদো নিজেও এখনও দারুণ ফর্মে আছেন। ক্লাব ফুটবলে তিনি নিয়মিত গোল করছেন এবং জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
Advertisement
এখন একটাই প্রশ্ন- ইতিহাস কি আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে? মেসির পর কি রোনালদোর হাতেও উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি? উত্তর দেবে সময়ই।
আইএইচএস/