বলা হচ্ছে নতুন পথচলা শুরু করছেন অধিনায়ক লিটন দাস। এবং নতুন পথে তার স্বপ্ন সারথিদের একটা বড় অংশ নবীন। শুধু তার ভক্তরাই নন, লিটন দাসের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দলের নতুন যাত্রাটা কেমন হয় তা দেখতে মুখিয়ে বাংলাদেশ সমর্থকরাও।
Advertisement
ব্যাটাররা, বিশেষ করে নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয় রান করেছেন। তারপরও ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের জয়ের রূপকার পেস বোলাররা। লম্বা ছিপছিপে গড়নের দ্রুতগতির বোলার নাহিদ রানা আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজকেই ধরা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টিম বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ের স্থপতি।
এই দুই ফাস্ট বোলার একটি করে ম্যাচে ৫ উইকেট দখল করে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারা কেউই নেই, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজের দুই জয়ের নায়কই শুধু নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকেও। মানে এ মুহূর্তে যাদের ধরা হয় দেশের ফাস্ট বোলিংয়ের ফ্রন্টলাইনার, তারা কেউই নেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
তিন দ্রুতগতির বোলার প্রচণ্ড গরমে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন। তাদের খানিক বিশ্রামে রেখে তুলনামূলক কম বয়সীদের দিয়ে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট সাজানো হয়েছে। পেস ডিপার্টমেন্ট সাজানো হয়েছে একটু ভিন্ন ছকে, খানিক নতুন আদলে।
Advertisement
খালি চোখে মনে হচ্ছে, সামনে অনেক খেলা। তার ওপর প্রচণ্ড গরম। এমন তীব্র গরমে এক সপ্তাহের মধ্যে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার পর বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন, মোস্তাফিজ আর নাহিদ রানাকে।
তা হয়তো হয়েছে, সেটা হতেই পারে। কিন্তু তাদের জায়গায় যাদের নেওয়া হয়েছে, যাদের দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিম বাংলাদেশের স্কোয়াডের পেস ডিপার্টমেন্ট গড়া হয়েছে, সেখানে শুধু রিপন মন্ডলের মতো সম্ভাবনাময় তরুণ আর আব্দুল গাফফার সাকলাইনের মতো একদম আনকোরা নবীনকেই শুধু নেওয়া হয়নি, একটা নতুন বার্তাও মিলেছে।
খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন, পেস বোলিং লাইনআপে অলরাউন্ডারের সংখ্যা বাড়ানো, ব্যাটিং জানা দ্রুতগতির বোলারের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বেশি।
শরিফুল ইসলাম ছাড়া বাকি যে কজন পেস বোলারকে দলে রাখা হয়েছে, তারা সবাই—বিশেষ করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন—শুধুই স্পেশালিস্ট পেসার নন। সাইফউদ্দিন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে মাঝেমধ্যেই অলরাউন্ডার হিসেবে মেলে ধরেন। তরুণ গাফফার সাকলাইনও অলরাউন্ডার। বোলিংয়ের পাশাপাশি এই পেস বোলার ব্যাটিং পারেন—সে চিন্তাতেই তাকে নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বাকি সবাই ব্যাটিং করতে পারেন। ঠিক অলরাউন্ডারের তকমাটা সেভাবে গায়ে না আটলেও তানজিম সাকিব ও রিপন মন্ডলও ব্যাটিংটা পারেন।কাজেই বোঝাই যাচ্ছে, পেস বোলারদের কাছ থেকে বোনাস হিসেবে ব্যাটিংটা চাওয়া হচ্ছে।
পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজে বের করতেই আসলে দলে প্রতিষ্ঠিত পেসারদের বিশ্রামে রেখে পুরোদস্তুর পেসার কম নিয়ে ব্যাটিং জানা পেস বোলারদের বিশেষ বিবেচনায় আনা হয়েছে।
টিম ম্যানেজমেন্টের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। কারণ সব ফরম্যাটেই দলে পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুব দরকার। বাংলাদেশ বোধ হয় একমাত্র টেস্ট খেলুয়ে দেশ, যাদের কোনো পেস বোলিং অলরাউন্ডার নেই। সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ—খেলা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। সেখানে একজন ভালো মানের চৌকস ক্রিকেটার দলে থাকা হবে বাড়তি প্লাস পয়েন্ট।
যদিও এটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ, তারপরও মনে হচ্ছে কিউইদের বিপক্ষে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে রিপন মন্ডল ও গাফফার সাকলাইনকে দলে নেওয়া মানেই পেস বোলিং অলরাউন্ডার অপশন বাড়ানো এবং নতুন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজে বের করা। দেখা যাক, সুযোগ পেলে নতুনরা কী করেন!
এআরবি/এমএমআর