আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের জয়জয়কার, গাজায়ও পেলো আসন

ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আসনেই তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, এমনকি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও আসন পেয়েছে তারা।

Advertisement

রোববার (২৬ এপ্রিল) ফল ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জ ও বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত শনিবারের এই ভোট ছিল ২০০৬ সালের পর গাজায় প্রথম কোনো নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম ফিলিস্তিনি নির্বাচন।

গাজায় ‘প্রতীকী’ ভোট

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে গাজা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Advertisement

আরও পড়ুন>>বিশ্ব যখন ইরানের দিকে তাকিয়ে, তখন ফিলিস্তিনে তাণ্ডব বাড়িয়েছে ইসরায়েলপশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের তাড়াতে যৌন সহিংসতা ছড়াচ্ছে ইসরায়েলিরাযুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আগে গাজায় ইসরায়েলি তাণ্ডব, নিহত ৭

২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে নির্বাচন বয়কট করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিছু তালিকায় হামাস-সমর্থিত প্রার্থীরা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত তালিকা ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থিত বলে পরিচিত তালিকা ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ মাত্র দুটিতে জয় লাভ করেছে। বাকি আসনগুলো কোনো পক্ষের সাথে যুক্ত নয় এমন দুটি স্থানীয় গ্রুপ লাভ করেছে।

পশ্চিম তীরে আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো আসনে তারা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হয়নি।

Advertisement

নির্বাচনে গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে তা ছিল ৫৬ শতাংশ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ।

গাজায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ এবং চলমান সংঘাতকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনি সরঞ্জাম ইসরায়েলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি। এছাড়া বিশাল জনপদ বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেকেই ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার প্রয়োগ করতেই তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার একটি ছোট অংশে এই ভোট ফাতাহর জন্য রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে হামাসের শক্তিশালী ঘাঁটিতে আসন লাভ করা তাদের জন্য বড় অর্জন।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/