ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে চীন। তেল সরবরাহে বিঘ্ন ও মূল্য অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
Advertisement
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং তেলনির্ভর দেশগুলো নতুন সমাধান খুঁজতে বাধ্য হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা এমবার জানিয়েছে, মার্চ মাসে চীনের সৌর প্রযুক্তি, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির রপ্তানি রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। শুধু সৌর প্রযুক্তিই প্রায় ৬৮ গিগাওয়াট রপ্তানি হয়েছে, যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর এশীয় দেশগুলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কর্মঘণ্টা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও ইভি নির্মাতা হিসেবে চীন বড় বাজার পাচ্ছে।
Advertisement
চীনের ব্যাটারি রপ্তানি মার্চে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বৈশ্বিক ব্যবহার বাড়ায় তেলের চাহিদাও কমছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করছে। যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ফসিল জ্বালানির নিরাপত্তার যুগ শেষ, এখন পরিষ্কার জ্বালানির যুগ শুরু হওয়া উচিত।
সামগ্রিকভাবে, ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে চীন।
সূত্র: সিএনএন
Advertisement
এমএসএম