শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে ডাকসু নেতাদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রদলের মুহসীন হল শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসাইন রবিনের নির্দেশে হামলার শিকার হয়েছেন জুলহাস ইসলাম। হামলার নির্দেশদাতা রবিন নিজেও এতে অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
Advertisement
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক জুলহাস ইসলাম এ অভিযোগ করেন। এ সময় হল সংসদের ভিপি সাদিক হোসেন, জিএস রাফিদ হাসান সাফওয়ান, এজিএস আব্দুল মজিদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলহাস ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মোসাদ্দেক তাকে ডাকসুতে দেখা করতে ডাকেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি ঝামেলা হয়েছে। পরে ফেসবুকে তিনি দেখেন মোসাদ্দেক ও জুবায়েরকে মারধর করা হচ্ছে। ছোট ভাইয়ের মতো বিবেচনা করে তাদের খোঁজ নিতে তিনি শাহবাগ থানায় যান।
তিনি বলেন, থানায় পৌঁছানোর পর আমার বন্ধু ও মুহসীন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রবিন কয়েকজনকে আমাকে ইশারায় দেখিয়ে দেয়। এরপর হঠাৎ ৩০-৪০ জনের একটি দল আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে ভিডিও ফুটেজে দেখি, রবিন নিজেও আমাকে আঘাত করছে, যদিও আগে সে (রবিন) দাবি করেছিল আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, হামলার পর আমাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমার কানের পর্দা ছিঁড়ে গেছে। এখনো ঠিকভাবে শুনতে পাচ্ছি না। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাতদিনের মধ্যে উন্নতি না হলে অপারেশন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি। আমি শুধু একটি নিরাপদ ও সুন্দর ক্যাম্পাস চেয়েছিলাম। আমার ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
থানায় মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। শুরুতে কারা হামলা করেছে তা নিশ্চিত ছিলাম না এবং অসুস্থতার কারণে ব্যস্ত ছিলাম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর ও হল প্রশাসনকে জানিয়ে উপযুক্ত বিচার দাবি করবো।
এসময় মুহসীন হল সংসদের জিএস রাফিদ হাসান সাফওয়ান বলেন, হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক জুলহাস ইসলামের ওপর যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার সরাসরি নির্দেশদাতা এবং হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন রবিন।
Advertisement
তিনি বলেন, শুরুতে আমরা যখন অভিযোগ করি যে জুলহাসকে ছিনিয়ে দিয়ে হামলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তখন রবিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে দেখিয়ে দেননি; বরং জুলহাসকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, হামলার সময় রবিন নিজেই জুলহাসকে আঘাত করে সেখান থেকে ফিরে যাচ্ছেন।
সাফওয়ান বলেন, এ ঘটনায় আমরা দাবি জানাই, সাজ্জাদ হোসেন রবিনকে অবিলম্বে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
এসময় এই হামলার বিচার দাবি করে চার দফা দাবি জানান হল সংসদের নেতারা। ভিপি সাদিক হোসেন চার দফা পড়ে শোনান। সেগুলো হলো-
আমাদের চারটি দাবি হলো—১. জুলহাস ইসলামসহ আক্রান্তদের ওপর হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও প্রশাসনিক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. হামলার নির্দেশদাতা ও নেতৃত্বদানকারী সাজ্জাদ হোসেন রবিনকে হল থেকে বহিষ্কার করে তার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।
৩. মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় হলে থাকা সবাইকে তিন দিনের মধ্যে হল থেকে অপসারণ করতে হবে।
৪. ভুক্তভোগী জুলহাসের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও সম্ভাব্য অপারেশনের ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
এফএআর/এমএএইচ/