প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন এসি নাকি এয়ার কুলার, কোনটি হবে ভরসা? আমাদের দেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু ঠান্ডা নয়, খরচ, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশ সবকিছুর দিকই বিবেচনা করতে হয়।
Advertisement
প্রথমেই আসি এয়ার কন্ডিশনার বা এসির কথায়। এসি ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে একেবারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বাইরে যতই গরম থাকুক, ঘরের ভেতর ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আরামদায়ক আবহ তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে শহরের ফ্ল্যাট বা বন্ধ ঘরে এসি বেশ কার্যকর। তবে এর একটি বড় অসুবিধা হলো বিদ্যুৎ খরচ। দীর্ঘ সময় এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে এসির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এয়ার কুলারঅন্যদিকে এয়ার কুলার তুলনামূলক সস্তা এবং বিদ্যুৎ খরচও অনেক কম। এটি পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাতাস ঠান্ডা করে, ফলে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা শীতলতা পাওয়া যায়। খোলা বা আধা-খোলা জায়গায় কুলার ভালো কাজ করে এবং বিদ্যুৎ না থাকলেও অনেক সময় ইনভার্টার বা ব্যাটারিতে চালানো যায়। তবে সমস্যা হলো বাংলাদেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় কুলারের কার্যকারিতা কমে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে কুলার তেমন ঠান্ডা দিতে পারে না, বরং ঘর আরও ভ্যাপসা লাগতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের দিক থেকেও কিছু পার্থক্য রয়েছেএসি দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, যা ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে কুলার কিছুটা আর্দ্রতা বজায় রাখে, তবে পানি পরিষ্কার না থাকলে জীবাণুর ঝুঁকি থাকে। পরিবেশগতভাবে কুলার বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, কারণ এতে কম বিদ্যুৎ লাগে এবং ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন কম।
Advertisement
যদি আপনার ঘর ছোট, বন্ধ এবং আপনি দ্রুত ও স্থায়ী ঠান্ডা চান তাহলে এসি ভালো বিকল্প। আর যদি খরচ কমাতে চান, খোলা জায়গা থাকে এবং মাঝারি ঠান্ডাতেই সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে এয়ার কুলারই যথেষ্ট হতে পারে।
আরও পড়ুনবাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবেগরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরিকেএসকে