চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই ধরনের আরও বিস্তৃত একটি প্রকল্প জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উন্নয়ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সড়ক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং জাইকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মহাসড়কের পাঁচটি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সেগুলো উন্নয়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার পর এ মহাসড়কের ওপর চাপ বাড়বে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
Advertisement
পরবর্তীতে জাইকার অর্থায়নে সমীক্ষা সম্পন্ন করে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (১)’ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি এগোতে গেলে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়া, চুক্তি চূড়ান্তকরণ এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য সমাপ্তিকাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। এ ধরনের বিলম্ব মাতারবাড়ি বন্দরের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
কারণ, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যেই মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দর চালু হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পণ্য পরিবহন ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে মহাসড়কটি দ্রুত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
এ প্রেক্ষাপটে মহাসড়কের অবশিষ্ট অংশ দ্রুত উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জাইকার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থায়নের অনুরোধ জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান যৌথ প্ল্যাটফর্মের ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জাইকার অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়।
Advertisement
পরবর্তীতে জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (২)’ গ্রহণ করা হয়। নতুন এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের অবশিষ্ট অংশ উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ এবং আধুনিকীকরণের মাধ্যমে পুরো রুটকে একটি কার্যকর ও গতিশীল সড়ক নেটওয়ার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একই ধরনের আরেকটি বড় প্রকল্প এরই মধ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় পিপিপিভুক্ত পুরোনো প্রকল্পটি আর প্রয়োজনীয় থাকছে না। পাশাপাশি এতে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও নেই, কারণ প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করেনি।
জাইকার সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং কম জটিল হবে। এতে করে মাতারবাড়ি বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সময়মতো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
এমএএস/এমএএইচ/