শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার জন্য আগামী ২৩ মে ছুটির দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এজন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর আবেদন করেছেন তারা।
Advertisement
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষে চারজন শিক্ষক নেতা এ আবেদন করেন। শিক্ষক নেতারা হলেন- মো. আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান।
আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তারা দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারি অন্যান্য বিভাগের মতো প্রাথমিকের শিক্ষকদেরও প্রতি তিন বছর পরপর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু ভোকেশনাল ডিপার্টমেন্টের (অবকাশকালীন সুবিধাপ্রাপ্তি বিভাগ) কারণে সময়মতো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটি না পাওয়ায় তারা যথাসময়ে ভাতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন।
তারা উল্লেখ করেন, আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতেও শিক্ষকরা একই সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। শিশুদের শিখন ঘাটতি পূরণে ১০টি শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ক্লাস চলমান। ঈদুল আজহার ছুটি ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১২ কর্মদিবস। এর আগে ২২ মে (শুক্রবার), ২৩ মে (শনিবার) এবং ৫ জুন (শুক্রবার) হিসাব করলে ১৫ দিনের ছুটি মেলানো সম্ভব হওয়ায় শিক্ষকরা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেতে পারেন।
Advertisement
আবেদনে শিক্ষকরা বলেন, ২৩ মে (শনিবার) বিদ্যালয় খোলা থাকায় হিসাবমতে মোট ছুটি ১৫ দিন না হওয়ায় শিক্ষকরা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা থেকে এ বছরও বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তিন বছর পরপর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেতে শিক্ষকদের চার থেকে পাঁচ বছর লেগে যাবে। এজন্য শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনা করে ২৩ মে (শনিবার) প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন।
সরকারি কর্মচারীদের টানা কাজের ক্লান্তি দূর করে মানসিক ও শারীরিক পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করতে এবং কাজের স্পৃহা ধরে রাখতে প্রতি তিন বছর পরপর ১৫ দিনের অর্জিত ছুটির (আর্নড লিভ) বিনিময়ে একমাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ শ্রান্তি বিনোদন ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী এটি প্রাপ্য হন।
Advertisement
এএএইচ/এমআইএইচএস