অর্থনীতি

উন্নয়ন ব্যয়ে বড় জোর, বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

Advertisement

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা রয়েছে। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ ধরা হয়েছে, যেখানে পরিচালন বা অপারেটিং ব্যয় বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। এ কারণে উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়নের অংশও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপিতে সরকারি অর্থায়নের অংশ ৩২ শতাংশ ধরা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

Advertisement

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে যেখানে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের অংশ ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে আগামী অর্থবছরের জন্য তা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ ধরা হয়েছে।

তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিবেচনায় নিলে নতুন বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায়।

তার ভাষ্য, আকাঙ্ক্ষা থাকা ভালো। কিন্তু সেটিকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা সমস্যা নয়, বরং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। বাস্তবায়ন করতে পারলে বড় বাজেট দেওয়ার সার্থকতা।

এসএম/এসএনআর

Advertisement