মেকআপ করে ঘুমিয়ে পড়া দেখতে ছোট একটা ভুল মনে হলেও ত্বকের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই বাইরে অনুষ্ঠান বা পার্টি থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরে এসে মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়েন-এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে ত্বকের নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
Advertisement
আমাদের ত্বক রাতে স্বাভাবিকভাবে পুরোনো কোষ ঝরিয়ে নতুন কোষ তৈরি করার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এই সময় ত্বক নিজেকে মেরামত করে এবং সতেজ থাকে। কিন্তু মুখে মেকআপ থাকলে এই স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে ত্বক ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না।
আরও পড়ুন কৃতির বিকিনি বডির রহস্য জানালেন তার কোচপ্রথমেই যেটা ঘটে তা হলো লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সারাদিন ধুলাবালি, ঘাম ও দূষণের সঙ্গে মিশে থাকা মেকআপ ত্বকের রন্ধ্রে জমে যায়। এতে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ত্বক নিস্তেজ দেখাতে শুরু করে এবং স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা হারায়।
এছাড়া নিয়মিত মেকআপ না তুলে ঘুমালে ত্বকের বয়স বাড়ার লক্ষণও দ্রুত দেখা দিতে পারে। অনেক কসমেটিক পণ্যের উপাদান দীর্ঘ সময় ত্বকে থেকে গেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বকের টানটান ভাব কমে যায় এবং অল্প বয়সেই বলিরেখা বা সূক্ষ্ম দাগ দেখা দিতে পারে।
Advertisement
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, রাতে ত্বক যখন পুষ্টি গ্রহণ ও মেরামতের কাজ করে, তখন মেকআপ একটি বাধার মতো কাজ করে। ফলে স্কিন কেয়ার পণ্যের কার্যকারিতা কমে যায় এবং ত্বক প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও পুষ্টি ঠিকমতো পায় না। এতে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে।
শুধু ত্বকই নয়, চোখের মেকআপ ঠিকভাবে না তুলেও ঘুমানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মাসকারা বা আইলাইনার চোখে থেকে গেলে জ্বালা, লালভাব বা সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো এটি কনজাংটিভাইটিসের মতো রোগের কারণও হতে পারে।
আরও পড়ুন বর্ষায় ত্বকের যত্নে ভুল করছেন না তো?সব মিলিয়ে, ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস, যা ত্বককে সুস্থ, পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিন তরুণ রাখতে সাহায্য করে।
জেএস/
Advertisement