কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বড় জয়ের সঙ্গে বড় দুঃসংবাদ কানাডার জন্য। দলের মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে ভয়াবহ এক চোটে মাঠ ছাড়ার পর তার বিশ্বকাপ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
Advertisement
ম্যাচের এক পর্যায়ে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর একটি ট্যাকলের শিকার হন কোনে। সংঘর্ষের পরপরই পরিস্থিতির গুরুতরতা বুঝতে পেরে মাদিবো নিজেও বিস্মিত প্রতিক্রিয়া জানান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনের পায়ে গুরুতর ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চোটের পর কানাডার সতীর্থরা এবং চিকিৎসক দল দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। মাঠেই জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চোটের শব্দ এবং কোনের ব্যথার চিৎকার স্টেডিয়ামের উঁচু অংশ থেকেও শোনা যাচ্ছিল।
ঘটনার পর ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন মাদিবোকে। এ সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। কানাডার কয়েকজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে রিচি লারিয়া এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কাতারের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
Advertisement
এক পর্যায়ে দুই দলের বেঞ্চ থেকেও খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে নেমে আসেন। কাতারের কোচ হুলেন লোপেতেগুই এবং কানাডার অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিওর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করতে হয় কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শকে।
চোটের সময় কানাডা ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল। ফলে অনেক কানাডিয়ান খেলোয়াড়ের মতে, কাতারের হতাশা থেকেই এমন বিপজ্জনক ট্যাকল এসেছে।
এদিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ইসমাইল কোনেকে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তবে এই কঠিন মুহূর্তেও দলকে অনুপ্রাণিত করেন বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা। কোনের পরিবর্তে মাঠে নেমে কিছুক্ষণ পরই তিনি দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন। গোল উদযাপনের সময় তিনি কোনের নাম লেখা জার্সি তুলে ধরে আহত সতীর্থের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন।
Advertisement
ম্যাচ শেষে কানাডার জয় যতটা আলোচনায় ছিল, তার চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে ইসমাইল কোনের সেই হৃদয়বিদারক চোটের ঘটনা।
এমএমআর