আন্তর্জাতিক

জেনেভায় আইএইএ প্রধানের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের বৈঠক আজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল হলেও, সুইজারল্যান্ডে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার মহাপরিচালক। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

Advertisement

অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অংশ হিসেবে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আইএইএও অংশ নেবে।

তবে, এরই মধ্যে একটি অবগত সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় জেনেভা সফরের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল ইরানি প্রতিনিধিদল। বৈঠক বা আলোচনার এজেন্ডা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবে না তেহরান। আগামী ৬০ দিনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যৎ সংলাপে ওয়াশিংটনের সব শর্ত মেনে নেবে তেহরান।

Advertisement

একই মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে, আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়াম ডিলিওশন (নিম্ন মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ) করার বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক নিয়ে পর্যবেক্ষকরা জানান, ইরান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

Advertisement

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহের ১৪ জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্মতিতে পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম