বিনোদন

আমার মেয়েরা কী আয়োজন করবে, আমি নিজেও জানি না: দিলারা জামান

বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান আজ (১৯ জুন) জীবনের ৮৩তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অসংখ্য অর্জনের মধ্যেও এবারের জন্মদিন তার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে পরিবারের কারণে। বহুদিন পর বড় মেয়েকে কাছে পেয়েছেন তিনি, আর সেই আনন্দই জন্মদিনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

Advertisement

জন্মদিনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দিলারা জামান বলেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা মেয়েকে দীর্ঘদিন পর কাছে পেয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত। তার ভাষায়, “বড় মেয়ে দেশে এসেছে। ওকে কাছে পেয়েছি, এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

জন্মদিনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা বা আয়োজন নিয়ে দিলারা জামান খুব একটা ভাবছেন না। কী হবে, কীভাবে উদযাপন হবে সেটাও নাকি পুরোপুরি জানেন না। সবকিছুই ছেড়ে দিয়েছেন মেয়েদের ওপর।

হাসতে হাসতে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, “আমার মেয়েরা কী আয়োজন করবে, আমি নিজেও জানি না। আমি বাসায় আছি, সবাই আসছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এভাবেই দিনটা ভালো কাটছে।”

Advertisement

বয়সের হিসেবে দিলারা জামান এখন আশির কোঠা পেরিয়েছেন। তবে জীবনকে দেখেন স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই। সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়বে, এটিই বাস্তবতা বলে মনে করেন তিনি। তাই জন্মদিনে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তার একমাত্র চাওয়া সুস্থতা ও দোয়া। দিলারা জামান বলেন, “দিনের পর দিন তো বয়স বাড়ছেই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থাকতে পারি।”

অভিনয় এখনও তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিত কাজ করলেও এ মাসে ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছেন পরিবারের জন্য। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে নতুন কোনো কাজ হাতে নেননি। তবে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও অনুরোধের কারণে মাসের শেষ দিকে একটি কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

তিনি জানান, “মেয়ে এসেছে বলে এই মাসে কাজ রাখিনি। তবে ২২ বা ২৩ তারিখে একটি কাজ করতে হবে। ওরা অনেক অনুরোধ করেছে।”

১৯৪৩ সালের ১৯ জুন অবিভক্ত ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন দিলারা জামান। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই নাটকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে তাকে অভিনয়ের জগতে নিয়ে আসে।

Advertisement

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৬৬ সালে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরে একের পর এক নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম শ্রদ্ধেয় নাম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন। ১৯৯৩ সালে সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক।

এমআই/জেআইএম