খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
Advertisement
সংগঠনটি বলেছে, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সবসময় পেশাদারত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত।
শনিবার (২০ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ১৭ জুন কেএমপির লবণচরা থানা এলাকায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার আশ্বাস দেন।
একপর্যায়ে তিনি বলেন, কোনো তথ্য থানার ইন্সপেক্টরকে দেওয়ার পর তা ফাঁস হলে তিনি নিজেই ওই ইন্সপেক্টরকে ‘গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেবেন’ এবং পরে জনগণ তাকে ‘পিটিয়ে মারবে’।
Advertisement
বিবৃতিতে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জনসম্মুখে দেওয়া যে কোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনটির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশ করেছেন।
কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধিবিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর পন্থা।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Advertisement
একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
টিটি/বিএ