ঘড়ির কাঁটায় রাত ১১টা। তবে ফেনী শহরের পুরাতন কারাগার রোডে তখনও ভরদুপুরের ব্যস্ততা। সবার গায়ে জড়ানো আকাশি-সাদা জার্সি। আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বড় পর্দায় যৌথভাবে উপভোগ করতে খেলা শুরুর আগেই পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। ম্যাচের সেই ৯০ মিনিট আর অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য ফেনীর এই সড়কটি হয়ে উঠেছিল বুয়েনস আইরেসের (আর্জেন্টিনার রাজধানী) কোনো এক উৎসবমুখর চত্বর।
Advertisement
সোমবার (২২ জুন) রাতে ফেনী পুরাতন কারাগারের সামনে হাজির হন হাজার হাজার ভক্ত। এর কারণ ২৫ ফুটের বিশাল এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপভোগ করতে দুই ঘণ্টার জন্য ফেনী পাইলট স্কুলের গেট থেকে শুরু করে পৌরসভা, পেট্রোল পাম্প ও ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে এবং স্মৃতিস্তম্ভের প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
এই সড়কে বিশালাকার জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে খেলা দেখতে সন্ধ্যা থেকেই জড়ো হতে থাকেন ফেনী শহর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার ফুটবলপ্রেমীরা।
ছাগলনাইয়া থেকে আসা নুরুজ্জামান বলেন, ‘বাড়িতে একা একা খেলা দেখার চেয়ে সবার সঙ্গে বড় পর্দায় দেখার আনন্দই আলাদা। এখানে গোল হলে যে উল্লাস হয়, তাতে মনে হয় যেন কাতারের গ্যালারিতে বসেই খেলা দেখছি। এই দুই ঘণ্টা আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে বাংলাদেশে আছি।’
Advertisement
দাগনভূঞা থেকে আসা শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘ফুটবল নিয়ে চরম উন্মাদনা থাকলেও পুরো দুই ঘণ্টাজুড়ে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এমনকি স্থানীয় অন্য দলের সমর্থকদেরও দেখা গেছে শান্ত পরিবেশে বসে খেলা উপভোগ করতে।‘
ফুটবল প্রেমী তরুণরা জানান, এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্যই ছিল সবাইকে একসঙ্গে করে একটি সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা। আর্জেন্টিনা দুই গোলে জিতে যাওয়ায় খেলা শেষে গভীর রাতে আনন্দ মিছিলের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফেনীর এ ফুটবল উৎসব।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এএইচ/এমএস
Advertisement