দেশজুড়ে

মোবাইল চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে দুই কিশোরকে নির্যাতন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ডুলনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুই কিশোরের পরিবার আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আমার নজরে আসে। তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, ডুলনা গ্রামের সানু মিয়ার ছেলে শামীম (১২) ও আহমদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী গ্রামের মৃত মীর হোসেনের ছেলে মঈন উদ্দিন (১৬) মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় একটি জমিতে মাছ ধরতে যায়। এ সময় ডুলনা গ্রামের দুপরাজ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া এবং ছয়শ্রী গ্রামের রইছ আলীর ছেলে হাছন আলী তাদের ডেকে নেয়। পরে একটি বাটন মোবাইল ফোন চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে দুই কিশোরকে দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে ফেলে। এরপর কয়েকজনকে জড়ো করে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।

Advertisement

বুধবার সকালে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাছ ধরার সময় ওই দুই কিশোরকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ‘চোর ধরেছি’ বলে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে। এরপর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মঈন উদ্দিনের মা খুর্শেদা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। মারধরের সময় আমার ছেলেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে সে তাদের হাত-পা ধরে কোনোমতে রক্ষা পায়। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএইচ/জেআইএম

Advertisement