কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঁশ কাটা নিয়ে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনাদের পিটুনিতে ইব্রাহিম মরণ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাছিমা বেগম নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
Advertisement
বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের মধ্যমপাড়া হাজি সৈয়দ আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ইব্রাহিম উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। আটক নাছিমা বেগম তার আপন বোন।
Advertisement
স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বোন নাছিমা বেগমের সঙ্গে পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছিমা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ভাইদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তেন। বোন ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি বাঁশ কাটেন নাছিমা বেগম। এ নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাছিমা বেগম, তার স্বামী কোব্বাত আহম্মদ ও ছেলে অলি আহম্মদ মিলে ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় তলপেট ও অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় স্থানীয়রা তাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘ফুফুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিন নানার বাড়িতে ছিলাম। এক বছর আগে বাড়িতে ফিরে আসি। বেশ কিছুদিন ধরেই ফুফু আমাদের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ মাকে মারধর করে আসছিলেন। সকালে বাঁশ কাটার প্রতিবাদ করায় ফুফু-ফুফা আর ফুপাতো ভাই মিলে বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোন নাছিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
Advertisement
জাহিদ পাটোয়ারী/এএইচ/জেআইএম