স্বাস্থ্য

সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ডা. শাফীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই কর্মকর্তার মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন রেখেছেন, ‘তিনি কি পাগল?’

Advertisement

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ডা. শাফীর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে। বুধবার সকালে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে মন্তব্য করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিকদের দেশের ৬০০টি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেটসহ অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া উচিত। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, যদি সাংবাদিকরা সফল হন, তবে তাদের স্থায়ীভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি এখনই তাকে (ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী) ফোন করে ক্লোজ (অব্যাহতি) করতাম।’

Advertisement

এসময় তিনি ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হয়ে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু আমরা পারছি না, তাই এমন একটি আলোচনার জায়গা হতে পারে কি না, সেটি বলেছি। বাথরুমগুলো কেন এমন, তা নিয়ে কেউ কিছু তুলে ধরছে না। দায় শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের না হলেও সব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার দায় সাংবাদিকদের—এমন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভবন সম্প্রসারিত হয় না, কিন্তু সব দায় স্বাস্থ্য বিভাগের একার নয়। সাংবাদিকরা পুরো তথ্য তুলে ধরেন না। শুধু ডাক্তার ও ব্যবস্থাপকরাই দায়ী বলে প্রচার করা হচ্ছে।’

এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে ফেলেন।

Advertisement

সরকারি পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ আছে কি না—জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি পদে থেকে এই ধরনের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসইউজে/এমআইএইচএস