৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেখানে এশিয়ান ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মঞ্চ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা রূপ নিয়েছে চরম হতাশায়।
Advertisement
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৯টি দল এবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু গ্রুপ পর্ব শেষে পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা—দলের সংখ্যা বাড়লেও, এশিয়ার সাফল্যের গ্রাফ নেমে গেছে তলানিতে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দলের টুর্নামেন্টেই এশিয়া থেকে রেকর্ড ৩টি দল (জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া) নকআউট পর্বে খেলেছিল। সেবার গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২ বা দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সমীকরণ অনেক সহজ হওয়া সত্ত্বেও (১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল) এশিয়া থেকে কেবল জাপান ও অস্ট্রেলিয়া শেষ বত্রিশের টিকিট কাটতে পেরেছে। দল সংখ্যা বাড়লেও নকআউটে এশিয়ার প্রতিনিধির সংখ্যা গতবারের চেয়েও কমে গেছে।
Advertisement
এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার পরাশক্তি থেকে শুরু করে উদীয়মান দল, প্রায় সবার পারফরম্যান্সই ছিল চরম হতাশাজনক:। এখন এশিয়ার ঝান্ডা জপান ও অস্ট্রেলিয়ার হাতে। এশিয়ান ফুটবলের মান রেখেছে কেবল জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ 'এফ' থেকে দুর্দান্ত খেলে রানার্স-আপ হয়ে নকআউটে উঠেছে জাপান, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। অন্যদিকে গ্রুপ 'ডি' থেকে রানার্স-আপ হয়ে শেষ বত্রিশে মিশরকে মোকাবেলা করবে সকারুরা।
বিগত আসরগুলোতে আলো ছড়ানো দলগুলো এবার খেই হারিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে ৩য় হলেও গোল ব্যবধানে সেরা তৃতীয় দলের তালিকায় স্থান পায়নি। ৩টি ম্যাচ ড্র করেও নকআউট মিস করেছে ইরান। আর সৌদি আরব গ্রুপ 'এইচ'-এ মাত্র ২ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের তলানিতে (চতুর্থ) থেকে বিদায় নিয়েছে।
প্রথমবার অংশ নেওয়া এশিয়ার দলগুলো বড় মঞ্চের চাপ সামলাতে পারেনি। নিতে হয়েছে শুন্যহাতে বিদায়।
প্রথমবারের মতো বা অনেকদিন পর সুযোগ পাওয়া দলগুলোর পারফরম্যান্স বেশি খারাপ। কাতার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান, উজবেকিস্তান ও ইরা; তিনটি দলই গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে।
Advertisement
২০০৬ বা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও এশিয়ার কোনো দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারেনি, তবে তখন এশিয়ার কোটা ছিল মাত্র ৪টি। ২০২৬ সালে ৯টি দল নিয়ে এসে মাত্র ২টি দলের টিকে থাকা এবং বাকিদের জয়হীন বা তলানিতে থেকে বিদায় নেওয়াটা এশিয়ান ফুটবলের জন্য একটি বড় বিপর্যয়। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, সুযোগ বাড়লেও বিশ্বমঞ্চের আধুনিক ও গতিময় ফুটবলের সাথে এশিয়ার দলগুলোর কৌশলী ও শারীরিক পার্থক্যের কারণেই এই ভরাডুবি।
আরআই/এসকেডি/জেআইএম