দেশজুড়ে

৬ বার নদীগর্ভে বিদ্যালয়, তবু নেভেনি শিক্ষার আলো

দফায় দফায় নদীগর্ভে শতবর্ষী বিদ্যালয় ৪৮২ শিক্ষার্থীর জায়গায় অধ্যয়নরত মাত্র ৭৪ জন নদী পার হয়ে নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারে না শিশুরা

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর একটি ছাপরা ঘর। সেখানেই চলছে বগুড়ার ১০৭ বছরের পুরোনো চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। কারণ, বিদ্যালয়ের ভবন গিলে খেয়েছে যমুনা। একসময় বিদ্যালয়টিতে পড়তো প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থী। এখন আছে মাত্র ৭৪ জন। নদীভাঙনে পরিবারগুলো এলাকা ছাড়ছে। এতে কমছে শিক্ষার্থী। যারা রয়ে গেছে, তাদের অনেককে প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। ঝড়-বৃষ্টির দিনে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়।

Advertisement

চকরতিনাথের মতোই যমুনার ভাঙনে সারিয়াকান্দির আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে জমির পাশাপাশি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীপাড়ের একটি প্রজন্মের শিক্ষার সুযোগও।

আরও পড়ুন ‘চোখ বুজলেই মনে অয়, এই বুঝি নদী আইয়া ঘরডা টান দিয়া লইয়া গেল’

চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসও যমুনার ভাঙনের মতোই দীর্ঘ। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি একসময় ছিল চরাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণবন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার পর এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৮২ জন। তখন আশপাশের গ্রামগুলো ছিল জনবসতিপূর্ণ। কিন্তু বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যমুনার গতিপথ বদলেছে, ভাঙন বেড়েছে, আর মানুষ হারিয়েছে ভিটেমাটি। একের পর এক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

‘আমার চাকরি জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে। আমার চোখের সামনেই বিদ্যালয়টি পাঁচবার নদীতে গেছে। এবার নিয়ে হলো ষষ্ঠবার। নতুন জায়গায় মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের জন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ না রাখতে নিজেদের অর্থেই এই টিনশেড তৈরি করে ক্লাস চালাচ্ছি’

Advertisement

চলতি বছরের ১৬ মে যমুনা ষষ্ঠবারের মতো বিদ্যালয়টির ভবন গিলে খায়। এখন কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছে মাত্র ৭৪ জন। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ১৮ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৩ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১২ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র আটজন।

বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। তবে দুজন বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় চারজন শিক্ষক মিলে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জায়গার সংকট এতটাই প্রকট যে, সব শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বসানো যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে। প্রথম শিফটে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ৬০-৬৫ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হয়।

আরও পড়ুন একপাশে ভারত সীমান্ত আরেক পাশে নদীভাঙন, মাঝখানে অসহায় গ্রামবাসী

কিন্তু সেই উপস্থিতির পেছনে লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিপু বাবুর দিন শুরু হয় ভোরেই। সুজাতপুর চর থেকে আধাঘণ্টা হেঁটে তাকে প্রথমে নদীর ঘাটে যেতে হয়। এরপর খেয়া নৌকায় যমুনা পার হয়ে আবার প্রায় ২০ মিনিট হাঁটতে হয় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে। প্রতিদিন প্রায় দেড় ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে ক্লাসে বসে সে।

‘বৃষ্টি শুরু হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। বই-খাতা ভিজে যায়। তখন পাশের কোনো বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। বৃষ্টি থামলে আবার ক্লাস শুরু করি। এতে শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হয়। এই পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া খুব কঠিন’

Advertisement

দিপু জাগো নিউজকে বলে, ‘স্কুলটা যদি ভালো জায়গায় থাকতো, তাহলে ভালোভাবে পড়তে পারতাম। খেলাধুলাও করতে পারতাম। এখন স্কুলে আসতেই অনেক কষ্ট হয়।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়ার গল্পও প্রায় একই। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট চরাঞ্চলের কাঁচা পথ হেঁটে নদীর ঘাটে পৌঁছাতে হয়। এরপর নৌকার জন্য অপেক্ষা। বর্ষাকালে নদী উত্তাল থাকলে কিংবা ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় না।

চরদিঘাপাড়ার শিক্ষার্থী স্বাধীন হাসান জানায়, অনেক সময় সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। ফলে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে। অনেক দিন নৌকা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

আরও পড়ুন ‘নদী আমার সব নিয়ে গেছে’

শুধু শিশুরাই নয়, উদ্বেগে থাকেন তাদের অভিভাবকরাও। নদী পার হয়ে সন্তান বিদ্যালয়ে যাচ্ছে—এই দুশ্চিন্তা তাদের নিত্যসঙ্গী। বর্ষা মৌসুমে সেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। অনেক পরিবার ঝুঁকির কারণে নিয়মিত সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পায়।

‘গত দেড় বছরে তিনবার বাড়ি ভেঙেছি। চারটা ভিটা নদীতে গেছে। এখন আর বাড়ি করার জায়গা নেই। সরকার যদি স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ না করে, তাহলে আমাদের এই এলাকা একদিন পুরোপুরি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে। এভাবে বাড়ির শিশুদের কীভাবে পড়ালেখা করাবো?’

তবে এতকিছুর পরেও শিক্ষার আলো নিভতে দেননি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর সরকারি বরাদ্দ বা নতুন ভবনের অপেক্ষায় বসে থাকেননি তারা। নিজেদের অর্থ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর টিনের চালা তুলে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করেছেন। সেখানেই চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নাহ আলম টানা ১০ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে। আমার চোখের সামনেই বিদ্যালয়টি পাঁচবার নদীতে গেছে। এবার নিয়ে হলো ষষ্ঠবার। নতুন জায়গায় মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের জন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ না রাখতে নিজেদের অর্থেই এই টিনশেড তৈরি করে ক্লাস চালাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শিক্ষার্থী কমে যাওয়া। নদীভাঙনের কারণে মানুষ এলাকা ছাড়ছে। অনেক পরিবার অন্য উপজেলায় চলে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই শিক্ষার্থী কমছে। যারা আছে তাদেরও অনেককে নদী পার হয়ে আসতে হয়। এতে শিশুরাও কষ্ট পায়, অভিভাবকরাও সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন।’

আরও পড়ুন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী / নদী ভাঙন রোধে ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার

সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। বই-খাতা ভিজে যায়। তখন পাশের কোনো বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। বৃষ্টি থামলে আবার ক্লাস শুরু করি। এতে শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হয়। এই পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া খুব কঠিন।’

‘চারপাশের কয়েকটি স্কুল নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের দূরের স্কুলে পাঠাতে পারেন না। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়’

চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই চিত্র এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। যমুনার ভাঙন ধীরে ধীরে সারিয়াকান্দির পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। নদী যত এগোচ্ছে, ততই ছোট হয়ে আসছে শ্রেণিকক্ষ, কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, আর অনিশ্চিত হয়ে উঠছে নদীপাড়ের হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ।

তবে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংকটই সারিয়াকান্দির একমাত্র চিত্র নয়। যমুনার অব্যাহত ভাঙনে পুরো জনপদের শিক্ষাব্যবস্থা এখন টালমাটাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার কামালপুর, হাটশেরপুর, শিমুলতাইড়, হাসনাপাড়া, ইছামারা, দড়িপাড়া ও কর্নিবাড়িসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন চলছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও করমজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরইমধ্যে নদীভাঙনের কারণে নয়াপাড়া, চকরতিনাথ ও দক্ষিণ হাটবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান অন্যত্র অস্থায়ীভাবে চালাতে হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের শিশুরা নিয়মিত ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি শুধু জমি বা বসতভিটা হারানো নয়, ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে একটি জনপদের সামাজিক কাঠামো। স্কুলভবন ভেঙে গেলে শিক্ষার্থী ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। কেউ নতুন স্কুলে ভর্তি হয়, কেউ আর পড়াশোনায় ফিরতে পারে না। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

আরও পড়ুন বগুড়ার চরে ‘লাল সোনা’ বিপ্লব

হাটশেরপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বকুল মিয়া বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, ধনেরপাড়া, কর্নিবাড়ি ও শিমুলবাড়ি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। শেরপুর গ্রামটিও এখন অস্তিত্ব সংকটে। মানুষ চলে গেলে স্কুলে শিক্ষার্থী থাকবে কীভাবে? আগে যে স্কুলগুলো শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকতো, এখন সেখানে শিক্ষার্থীই পাওয়া যায় না।’

তিনি জানান, সম্প্রতি প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। অনেক পরিবার দিনের বেলায় ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, আবার রাত কাটাচ্ছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।

শিমুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের জামে মসজিদটাও দুই-তিন বছর পরপর সরাতে হয়। এবারও নদী একেবারে কাছে চলে এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যে না সরালে মসজিদটাও নদীতে চলে যাবে।’

রফিকুল ইসলামের জীবন যেন যমুনার ভাঙনের এক নির্মম ইতিহাস। তিনি বলেন, ‘জীবনে ১২ বার বাড়ি ভেঙেছি। এবারও ঘর নদীতে চলে গেছে। নতুন করে বাড়ি করার জায়গা নেই। জমির দাম এত বেশি যে কেনার সামর্থ্যও নেই।’

চরদিঘাপাড়ার বাসিন্দা কামরুজ্জামান ও শাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘চারপাশের কয়েকটি স্কুল নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের দূরের স্কুলে পাঠাতে পারেন না। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়।’

আরও পড়ুন ভারত থেকে আমদানির পর রপ্তানি হয় ‘সিলেটের সাতকরা’ নামে

ভাঙনকবলিত শেরপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গত দেড় বছরে তিনবার বাড়ি ভেঙেছি। চারটা ভিটা নদীতে গেছে। এখন আর বাড়ি করার জায়গা নেই। সরকার যদি স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ না করে, তাহলে আমাদের এই এলাকা একদিন পুরোপুরি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে। এভাবে বাড়ির শিশুদের কীভাবে পড়ালেখা করাবো?’

একই এলাকার আব্দুল মমিন বলেন, ‘একটা বাড়ি সরাতেই ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাগে। ভিটেমাটি হারাতে হারাতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন সংসার চালাবো না সন্তানদের লেখাপড়া করাবো, সেই চিন্তায় দিন কাটে। অনেক পরিবার টাকার অভাবে ছেলে-মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাতে পারছে না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনার ভাঙন নতুন নয়। প্রায় প্রতি বছরই একই সংকট দেখা দেয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বারবার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি হারাতে হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশও ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ‘উপজেলায় বর্তমানে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সেটি অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালি, ফকিরপাড়া ও ইছামারা এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন ভারত থেকে আমদানির পর রপ্তানি হয় ‘সিলেটের সাতকরা’ নামে

সারিয়াকান্দির শেরপুর এলাকার ভাঙনের পরিধি অনেক বড়। এখানে ছোট পরিসরে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বগুড়া জেলার প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে রয়েছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দির কামালপুর থেকে শহরাবাড়ী স্পার, সোনাতলার পাকুল্ল্যা থেকে হাটশেরপুর এবং ধুনটের শহরাবাড়ী থেকে বানিয়াজান পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে। শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পার শক্তিশালী করা এবং ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদন পেলে স্থায়ী কাজ শুরু হবে।’

এসআর/এএসএম